সুইডেনে আদি বাসিন্দারা সংখ্যালঘু! বাক স্বাধীনতা নেই, বোমাবাজির রেকর্ড, অভিবাসন নীতিতে তোলপাড়

একসময় বিশ্বের নিরাপদতম দেশগুলোর মধ্যে ধরা হতো সুইডেনকে, কিন্তু সেই ছবির মতো সাজানো দেশ এখন দাঙ্গা, ধর্ষণ আর বোমাবাজির আতঙ্কে বিধ্বস্ত। পরিস্থিতি এতটাই ভয়ঙ্কর যে, দেশটির নাগরিকরা এখন অন্তত ৬৫টি ‘নো-গো জোন’ এলাকায় সূর্যাস্তের পর খুন হওয়ার আশঙ্কায় ঢুকতে ভয় পাচ্ছেন। এমনকি বোমাবাজির আতঙ্কে রাতে ঘুমোতে পারছেন না।
দেশের অন্যতম বড় শহর মালমো-কে এখন ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মতোই বিপজ্জনক বলে অভিযোগ করছেন সেখানকার বাসিন্দারা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে সুইডেনে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ২,৩০০ শতাংশ। শুধু গত দুই বছরেই দেশজুড়ে বোমাবাজি হয়েছে ৪৫০ বার। ২০২৩ সাল থেকে সুইডেনে প্রতিদিন গড়ে একটি করে বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে, বলছে সুইডিশ ক্রাইম প্রিভেনশন কাউন্সিল। রাজধানী স্টকহোমে এই মাসেই এক যুবকের হাত কেটে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য অ্যালিস মাওয়া মালমো-র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘গোটা সুইডেনের লজ্জা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
অভিবাসন নীতিতে তোলপাড়, আদি বাসিন্দারা সংখ্যালঘু:
দেশের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির জন্য অবৈধ অভিবাসীদের দায়ী করছেন সুইডেনের আদি বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, অবৈধ অভিবাসীরা মালমো-সহ বহু শহরের কার্যত দখল নিয়েছেন, যার ফলে রোজ গ্যাং-ওয়ার, লুটপাট ও ভাঙচুর চলছে। অপরাধের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইলন মাস্কও তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে মার্কিন পর্যটকদের সুইডেনে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সতর্ক করেছেন।
অভিযোগ উঠেছে, দেশে এখন বাক-স্বাধীনতাও নেই। সরকারের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ৬৫ বছরের এক মহিলাকে জেলে যেতে হয়েছে। এমনকি আদি সুইডিশরাই এখন দেশে সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ। সুইডেনের প্রাথমিক স্কুলগুলোর তিনজন শিক্ষকের মধ্যে দুজন নাকি সুইডিশ ভাষাতেই কথা বলতে পারেন না।
সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মালমো শহরের, যেখানে ১৮৭টি দেশ থেকে আসা মানুষের বাস। নর্ডিক টাইমস-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মালমো-তেই সবচেয়ে বেশি বোমাবাজি হচ্ছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে, একদা সুখের ঠিকানা সুইডেন ছেড়ে পরিবার নিয়ে ইউরোপ বা আমেরিকাতেও চলে যাচ্ছেন বহু মানুষ।