‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এর ১৫ বছর, রণবীরকে কাস্ট করার সিদ্ধান্তে প্রায় সবাই ছিলেন অনিশ্চিত, জানালেন পরিচালক মনীশ শর্মা

‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ মুক্তির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছবিটির পরিচালক মনীশ শর্মা এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানালেন এই ব্লকবাস্টার ছবি তৈরির পেছনের নানা অজানা কাহিনি। তিনি স্বীকার করেছেন, প্রথম দিকে রণবীর সিংকে মুখ্য চরিত্রে (বিট্টু) কাস্ট করার সিদ্ধান্তে প্রায় কেউই রাজি বা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কেবল তিনি এবং প্রযোজক আদিত্য চোপড়াই এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন।
যেভাবে জন্ম নিল গল্প:
মনীশ শর্মা যখন ‘রব নে বনা দি জোড়ি’-তে আদিত্য চোপড়ার সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, তখনই আদিত্য তাঁকে তাঁর ডেবিউ ছবির জন্য গল্প তৈরি করতে বলেন। মনীশের প্রথম ইচ্ছা ছিল ‘ফ্যান’ বানানোর, কিন্তু আদিত্য সেটিকে ডেবিউর জন্য বড় প্রকল্প হিসেবে বাতিল করেন। ঠিক সেই সময় মুম্বই থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে একটি ম্যাগাজিন পড়ে তাঁর মাথায় ‘বিট্টু’ এবং ‘শ্রুতি’— এই দুই তরুণ-তরুণীর চরিত্র আসে।
হাবিব ফয়সলের অবদান:
দিল্লিতে ‘দো দুনি চার’-এর শুটিং চলাকালীন লেখক হাবিব ফয়সলকে গল্প শোনান মনীশ। হাবিব গল্পের টেম্পারামেন্ট বুঝে কাজ করতে রাজি হন। দু’জনে মিলে ছবির মূল সংঘাত নির্ধারণ করেন— ‘পেয়ার বনাম ব্যবসা’। মনীশ দিল্লির ছেলে হওয়ায় জায়গা ও মানুষ সম্পর্কে জানতেন, কিন্তু সংলাপের কৃতিত্ব তিনি পুরোপুরি হাবিব ফয়সলকে দেন, যেখানে দিল্লির স্বাভাবিক টোন ও স্থানীয় স্বাদ ফুটে ওঠে।
রণবীর সিং কাস্টিংয়ের চ্যালেঞ্জ:
কাস্টিং ডিরেক্টর শানু শর্মার পরামর্শে রণবীরের অডিশন দেখে মনীশ প্রথম দিন থেকেই নিশ্চিত ছিলেন— এই ছেলেই বিট্টু। যদিও সেই সময়ে কেউই নবাগত রণবীরকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কেবল মনীশ এবং আদিত্য চোপড়া তাঁকে জোরালো সমর্থন করেন।
অনুষ্কা কেন প্রথম পছন্দ?
‘রব নে বনা দি জোড়ি’-র সময় থেকেই অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে মনীশের কাজের একটি ভালো বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। তাই গল্প লেখার সময় থেকেই শ্রুতির চরিত্রে তিনি অনুষ্কাকেই চেয়েছিলেন।
সঙ্গীতের নেপথ্য কাহিনি:
সঙ্গীত পরিচালনার জন্য সালিম-সুলেমানকে বেছে নেন মনীশ। ‘বারি বরসি’ ছিল প্রথম তৈরি হওয়া গান। ‘অ্যাঁইভাই অ্যাঁইভাই’ আগে থেকেই তৈরি ছিল, যা পরে ছবিতে মানিয়ে যায়। মজার বিষয়, ‘দম দম’ মূলত ‘রব নে…’ ছবির জন্য বানানো হয়েছিল, যা এখানে ব্যবহার হয়।
ওয়াইআরএফ-এর বাইরে গিয়ে শুট:
মনীশ শুরু থেকেই চেয়েছিলেন সাধারণ ‘গ্লসি’ ইয়াশ রাজ ফিল্মস (ওয়াইআরএফ) স্টাইলের রোম্যান্টিক কমেডির বাইরে বেরিয়ে বাস্তব ও অথেনটিক টোনে গল্পটি বলতে। স্ক্রিপ্ট পড়ে অনেকেই এটিকে টিপিক্যাল ওয়াইআরএফ ওয়েডিং ফিল্ম মনে করলেও, মনীশ আদিত্যকে পরিষ্কার জানান যে তিনি প্রথাগত ওয়াইআরএফ স্টাইলে শুট করবেন না, এবং আদিত্য সঙ্গে সঙ্গে তাতে সম্মতি দেন। এই পারস্পরিক বিশ্বাসই ছবিটিকে বলিউডে একটি আলাদা পরিচয় এনে দেয়।