আবাস যোজনা থেকে জল জীবন মিশন, কেন্দ্রের কাছে বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি, লোকসভায় সরব তৃণমূল

১০০ দিনের কাজের প্রকল্প (MGNREGA) নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের টানাপোড়েন এবার এক নতুন মাত্রা পেল। মঙ্গলবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের পেশ করা একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে এই প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গকে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের দাবি, নিয়ম না মানার কারণেই এই বরাদ্দ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এই পরিসংখ্যানটি লোকসভায় জানতে চেয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্নের জবাবেই কেন্দ্র এই তথ্য পেশ করে।

🔥 তৃণমূলের ক্ষোভ ও বিজেপির পালটা
কেন্দ্রের এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ ও নেতারা এটিকে বাংলার বিরুদ্ধে ‘অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধ’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরেও ওরা গায়ের জোরে টাকা আটকে রেখেছে’ এবং এর আসল উদ্দেশ্য ‘বাংলার মানুষকে ভাতে মারা’। তৃণমূল এই ‘লিখিত স্বীকারোক্তি’ মানুষের আদালতে পেশ করবে বলে জানিয়েছে।

সংসদে তৃণমূল সাংসদ বাপি হালদার দাবি করেন, অবিলম্বে অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলাতেও ১০০ দিনের প্রকল্প ও আবাস যোজনা-র টাকা দিতে হবে। তিনি জল জীবন মিশনের আড়াই হাজার কোটি টাকা-সহ কেন্দ্রের কাছে বাংলার মোট বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা মেটানোর দাবি জানান।

পালটা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, “বাংলার বরাদ্দ শূন্য হওয়াটাই স্বাভাবিক। কারণ, রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের টাকা চুরি করেছে। হিসেব না-দিলে কেন্দ্র কেন জনগণের করের টাকা পাঠাবে? আগে চুরির হিসেব দিক, তারপর টাকার কথা বলবে।”

প্রসঙ্গত, এই দিনেই কোচবিহারের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্র থেকে আসা ১০০ দিনের কাজ সংক্রান্ত একটি নোটিশ অযৌক্তিক শর্তের অভিযোগে মঞ্চেই ছিঁড়ে ফেলে প্রতিবাদ জানান। ২০২৪-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনীতিতে প্রচারের মূল হাতিয়ার হতে চলেছে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01