৪২৫ বছরের ঐতিহ্য চারমিনার, দূষণ ও কম্পনের জেরে ফাটল, ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি ও প্রযুক্তির সাহায্যে সংরক্ষণে সরকার

১৫৯১ সালে কুতুবশাহি শাসক মুহম্মদ কুলি কুতুব শাহ হায়দরাবাদ শহরকে নতুন পরিচিতি দিতে ইন্দো-ইসলামিক রীতিতে যে দুর্দান্ত স্থাপত্য তৈরি করেছিলেন, সেই চারমিনার ৪২৫ বছর পরেও শহরের প্রাণকেন্দ্র। একসময় এটি “হায়দরাবাদের তাজমহল” নামে পরিচিত ছিল। তবে বর্তমানে দূষণ এবং কম্পনের কারণে এই শতাব্দী প্রাচীন কাঠামোটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন তেলঙ্গানা সরকার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ।
চারমিনারের বিশেষত্ব:
নির্মাণ ও রীতি: এটি সম্পূর্ণরূপে ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্য রীতিতে নির্মিত, যার চারপাশে মসজিদ ও মাদ্রাসা তৈরির জন্য পারস্যের ইরানি স্থপতিদের নিয়োগ করা হয়েছিল।
প্রতীকী গুরুত্ব: চারমিনারের চারটি মিনার ইসলামের প্রথম চার খলিফার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
মসজিদ: উপরের তলায় একটি ছোট মসজিদ রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ৪৫ জন নামাজ পড়তে পারেন।
উচ্চতা ও সিঁড়ি: প্রতিটি মিনার প্রায় ৪৮.৭ মিটার (১৬০ ফুট) উঁচু এবং চূড়ায় পৌঁছানোর জন্য ১৪৯টি সিঁড়ি বেয়ে উঠতে হয় (যদিও এখন নিরাপত্তার কারণে প্রবেশ বন্ধ)। প্রতিটি মিনারের সামনে ১৮৮৯ সালে স্থাপিত একটি ঘড়ি রয়েছে।
সংরক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা: ২০১৮ সালে চারমিনারকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং এটি ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ (ASI) দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে দূষণ ও কম্পনের কারণে ফাটল দেখা দেওয়ায় সরকার এটিকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা: ভবনের ২০০ মিটারের মধ্যের এলাকাটিকে যানবাহনমুক্ত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে বারান্দায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মেরামত পদ্ধতি: ঐতিহ্যবাহী উপকরণ যেমন চুন, বালি, গুড়, ভেড়ার দুধের নির্যাস, ডিম এবং মার্বেল গুঁড়ো ব্যবহার করে মেরামত করা হচ্ছে। আধুনিক স্ক্যানিংয়ে জানা গিয়েছে, মিনারের অভ্যন্তরীণ গ্রানাইট কাঠামো এখনও অক্ষত রয়েছে।
নির্মাণের নেপথ্য কাহিনি: কথিত আছে যে, প্লেগ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর সুলতান কুলি কুতুব শাহ আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে, মহামারী শেষ হলে তিনি একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করবেন। প্লেগ শেষ হওয়ার পর তিনি যেখানে প্রার্থনা করেছিলেন, সেখানেই চারমিনার নির্মাণ শুরু করেন। কেউ কেউ এটিকে তাই ‘ধন্যবাদজ্ঞাপক স্তম্ভ’ বলে অভিহিত করেন।