‘মহিলাদের ভোটের দাম ৬০ হাজার টাকা’, কৃষ্ণ কল্যাণীর মন্তব্যে বিতর্ক; শুভেন্দুকে ‘পাগল’ বলে পালটা আক্রমণ, অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব

মহিলাদের ভোটের মূল্য নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন রায়গঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী। তিনি দলীয় সভায় বলেন, ‘একটা ভোটের দাম মিনিমাম ৬০ হাজার টাকা’। এই মন্তব্যের ভিডিয়ো সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন, সরকারি অনুদানের টাকায় ভোট কেনার অপচেষ্টা করছেন কৃষ্ণ কল্যাণী।
ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হতেই, ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ থাকা কৃষ্ণ কল্যাণী ফোন মারফত শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন। রায়গঞ্জের বিধায়ক বলেন, “ওঁর (শুভেন্দু) মস্তিস্কের বিকৃতি ঘটেছে। ওঁর চিকিৎসার প্রয়োজন। খুব তাড়াতাড়ি কোনও মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখিয়ে সুস্থ হয়ে আসুক, তারপর ওঁর কথার জবাব দেব।” তিনি আরও বলেন, শুভেন্দু দলবদলু, আর তিনি (কৃষ্ণ কল্যাণী) বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়ে তৃণমূলের প্রতীকে ভোটে জিতে এসেছেন।
ঠিক কী বলেছিলেন কৃষ্ণ কল্যাণী? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকার অঙ্ক বুঝিয়ে কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, “আমি আগে ব্যবসায়ী পরে রাজনীতিবিদ। আপনাদের একটা ভোটের দাম কত জানেন? আমি বলছি, মিনিমাম ৬০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন ১ হাজার টাকা। ১ বছরে ১২ মাস, মানে ১২ হাজার টাকা। আর ৫ বছরে হয়ে যাচ্ছে ৬০ হাজার টাকা। ৬০ হাজার টাকার কমে ভোট দেবেন? আমি বলব, না-ভাই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এর থেকে বেশি দিয়েছে। এখন আপনারা যা পারবেন তাই করুন। কিন্তু, ৬০ হাজারের কমে মানবেন না।”
শুভেন্দু অধিকারী এই বক্তব্যকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন। যদিও, দলীয় বিধায়কের এমন মন্তব্যে উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব অস্বস্তিতে পড়ে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল মন্তব্যটি কৃষ্ণ কল্যাণীর ব্যক্তিগত বলে এড়িয়ে যান।
অন্যদিকে, এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধীরা। রায়গঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক ও কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, “কৃষ্ণ কল্যাণী মহিলাদের অপমান করেছেন। আমরা মহিলাদের মা-বোন-দিদি বলি। ওঁর মতিভ্রম হয়েছে, মাথা খারাপ হয়েছে, এখনই চিকিৎসার দরকার।” সিপিআইএম-এর রায়গঞ্জ শহরের সম্পাদক তীর্থ দাস বলেন, “আসলে উনি তো শিকার করেন যে, উনি প্রথমে ব্যবসায়ী তারপরে রাজনীতিবিদ। ওদের রাজনীতিটাই ব্যবসা। তাই মানুষকে পণ্য বলে মনে করেন। এই টাকা আমার-আপনার দেওয়া করের টাকা।”