শত্রুপক্ষের পা কাঁপবে ভয়ে, ভারতের হাতে এবার ৩০০ কি.মি রেঞ্জের নতুন মিসাইল

ভারতের সামরিক ইতিহাসের ‘স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে’ যে আক্রমণ—তার নাম ‘অপারেশন সিঁদুর’। এই ঐতিহাসিক সামরিক অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনী স্বদেশি প্রযুক্তিতে তৈরি পিনাকা (Pinaka) মাল্টি ব্যারল মিসাইল ব্যবহার করে পাকিস্তানের জঙ্গিঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। DRDO চেয়ারম্যান সমীর ভি কামতের মতে, এই আক্রমণ করার প্রধান লক্ষ্য ছিল ভারতের শক্তি প্রদর্শন করা, যাতে সন্ত্রাসবাদীদের মদত দেওয়ার আগে পাকিস্তানকে বারবার ভাবতে হয়।

🚀 পিনাকার ধ্বংসলীলা: বাঙ্কার উধাও, নিহত শতাধিক জঙ্গি

‘অপারেশন সিঁদুরের’ সময় ১২০ কিলোমিটার দূরে লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছিল এই পিনাকা মিসাইল। পিনাকা Mk-3 ভ্যারিয়েন্ট (১২০ কিমি পাল্লার) ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র (BrahMos), রাফালে জেট (Rafale Jet) এবং স্মার্চের (Smerch) সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ২৪টি হামলায় অংশ নেয়।

  • ক্ষমতা: একটি পিনাকা ব্যাটারি (ছয়টি লঞ্চার) মাত্র ৪৪ সেকেন্ডে ৭২টি রকেট নিক্ষেপ করতে সক্ষম, যা ১,০০০ x ৮০০ মিটার এলাকা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে পারে।

  • সাফল্য: স্যাটেলাইট চিত্র নিশ্চিত করেছে যে এই রকেট লঞ্চারগুলো মুরিদকে, শিয়ালকোট এবং জ্যাকোবাবাদের ক্যাম্প ধ্বংস করেছে।

  • হতাহত: IC-814 বিমান হাইজ্যাকিং এবং পুলওয়ামা বিস্ফোরণে অভিযুক্ত-সহ ১০০ জনেরও বেশি সন্ত্রাসবাদী এই হামলায় নিহত হয়।

🎯 নির্ভুল নিশানা ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব

১৯৮৬ সালে রাশিয়ান গ্র্যাড-স্মার্চকে প্রতিস্থাপনের জন্য DRDO (Defense Research and Development Organization) পিনাকা তৈরি করে। ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধেই এর প্রথম ব্যবহার হয়।

  • গতি ও জ্বালানি: এই মিসাইল বিশেষ জ্বালানিতে চলে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গতি দেয় এবং শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এড়াতে পারে।

  • নিরাপত্তা: এটি থ্রোটল প্রোপালশন ব্যবহার করে মাঝপথে গতি পরিবর্তন করতে পারে। এর নিশানা এত নির্ভুল যে, এটি আস্ত রাডার সাইটও ধ্বংস করতে সক্ষম।

  • দ্রুত ফায়ারিং: মাত্র ২০ সেকেন্ডে ১২টি ফায়ার করতে পারে এই অস্ত্র। ২১৬টি রকেট নিক্ষেপ করে এটি ৩০০ কিলোমিটার দূরে একটি সম্পূর্ণ বিমানঘাঁটি ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।

📈 ভবিষ্যতের লক্ষ্য: ইসলামাবাদ ও করাচি রেঞ্জে

বর্তমানে পিনাকা এমকে৪ রকেটের দাম প্রায় ৪-৫ কোটি টাকা, যা একটি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের (১৫-২০ কোটি টাকা) তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।

DRDO চেয়ারম্যান সমীর ভি কামত জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে পিনাকার রেঞ্জ বেড়ে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার হবে। বৈজ্ঞানিকভাবে, এটি আর্টিলারি এবং ট্যাকটিক্যাল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ব্যবধান পূরণ করতে সক্ষম।

৩০০ কিলোমিটার রেঞ্জ অর্জন হলে:

  • ভারত থেকেই তিব্বতি বিমানঘাঁটি বা ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা লক্ষ্য করা যাবে।

  • ইসলামাবাদ বা করাচিতে সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হবে।

  • আন্দামান থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে শত্রুর নৌবাহিনীকে ডুবিয়ে দেওয়াও অবলীলায় সম্ভব হবে।