ভয়ে কিছু জানায়নি কিশোরী, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ! ৫০ বছরের দোষীকে কঠোর শাস্তি আদালতের

১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রতিবেশীকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল জলপাইগুড়ি পকসো আদালত। এর পাশাপাশি, দোষীকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দু’মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত এই ঘটনায় নির্যাতিতাকে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দিতে ডিস্ট্রিক্ট লিগাল সার্ভিস অথরিটিকে (DLSA) নির্দেশ দিয়েছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ধূপগুড়ি থানা এলাকায় এই ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে অভিযুক্ত প্রতিবেশী (৫০ বছর বয়সী) ১৬ বছরের ওই নাবালিকাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এই ঘটনা কাউকে জানালে নাবালিকাকে প্রাণে মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। ভয়ে নির্যাতিতা সেই সময় কাউকে কিছু জানায়নি।
পরবর্তী সময়ে মেয়ের শারীরিক গঠনে বদল আসতে দেখে বাবা-মা তাকে চেপে ধরেন। দিদি এবং বাবার জিজ্ঞাসাবাদের পর কাঁদতে কাঁদতে নির্যাতিতা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা জানায়। এরপর আর দেরি না করে নাবালিকার বাবা ওই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে এবং নাবালিকার গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়।
এদিকে, কিছুদিন পরই নির্যাতিতা একটি সন্তানের জন্ম দেয়। মামলার তদন্তকারী অফিসার নাবালিকা, তার সদ্যজাত সন্তান এবং অভিযুক্তের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেই পরীক্ষার রিপোর্ট আদালতে জমা হয়, যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
পকসো আদালতের সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দত্ত জানান, “নাবালিকা এবং ওই ব্যক্তির বাড়ি পাশাপাশি। ঘটনার সময় নাবালিকার বয়স ছিল ১৬ বছর এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বয়স ছিল ৫০ বছর। মাত্র ৮ মাসের মাথায় এই মামলায় রায় ঘোষণা হলো।” তিনি আরও জানান, বিচারক এদিন দোষী রিন্টু সুরকে ২৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে নাবালিকা যে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করেছে, সেটিও তুলে ধরেন।