পূর্ব মেদিনীপুর, ১৪ মাস বন্ধ সিসা কারখানা, কাজ হারিয়ে চরম দুর্দশায় ৭০০ শ্রমিক পরিবার; মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বাঁচার আর্জি

দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সিসা উৎপাদন করে আসা পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার মেচগ্রামের ‘এপিএল মেটালিক্স’ কারখানাটি দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে তালাবন্ধ। বাম আমলে চালু হওয়া এই কারখানা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন এর সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৭০০ স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকের পরিবার। এক সময়ের শ্রমিকদের কলরবে মুখরিত কারখানা চত্বরে এখন শুধুই নীরবতা, আর কাজ হারানো শ্রমিকদের চোখে জল।
কারখানা বন্ধের সঠিক কারণ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট না করলেও বারবার কারখানাটি চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু সেই আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেয়নি। ফলে কাজ হারিয়ে শ্রমিকেরা এখন অসহায়ভাবে দিন গুজরান করছেন। কীভাবে পরিবারের সদস্যদের মুখে অন্ন তুলে দেবেন, তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। শ্রমিকদের রোজগার বন্ধ হওয়ায় অনেক পরিবারের স্কুলপড়ুয়া বাচ্চাদের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয়েছে।
এপিএল মেটালিক্সে স্থায়ী শ্রমিক ছিলেন ৩৫০ জন এবং অস্থায়ী শ্রমিক ছিলেন ৩৫০ জন। কারখানার জন্মলগ্ন থেকে কাজ করা রবি চক্রবর্তী বর্তমানে বেকার। তিনি কাতর কণ্ঠে জানান, “এই কারখানায় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ জন কর্মী ছিল। কারখানা চালু থাকায় তাদের সমস্যা ছিল না। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কারখানার গেটে ঝুলছে তালা। বেতন বন্ধ। প্রতিটি শ্রমিক পরিবার অভাবের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।”
চুরি হচ্ছে যন্ত্রাংশ, ক্ষোভ শ্রমিক মহলে
কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার ফলে চুরির উপদ্রব শুরু হয়েছে। চুরি হচ্ছে লক্ষাধিক টাকার যন্ত্রাংশ। কর্তৃপক্ষ প্রথমে শ্রমিকদেরই ৪,০০০ টাকার বিনিময়ে পাহারার ব্যবস্থা করতে বলেছিলেন, কিন্তু সেই টাকাও এখন বন্ধ। ক্ষোভে এর আগে শ্রমিকরা কারখানার গেটে বিক্ষোভও দেখিয়েছিলেন।
শ্রমিকদের একটাই দাবি—দীর্ঘদিনের মালিকপক্ষের আশ্বাসে কাজ না হওয়ায় এবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন, তিনি যেন দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেন এবং এই বিপন্ন শ্রমিক পরিবারগুলোকে বাঁচান।