‘বন্দে মাতরম’ বিতর্ক কেন? মোদির আলোচনাকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রশ্ন প্রিয়ঙ্কার, বললেন ‘ফোকাস সরাচ্ছে সরকার’!

জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সংসদে আয়োজিত দীর্ঘ ১০ ঘণ্টার আলোচনা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অমেঠির কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা। জওহরলাল নেহরুর উত্তরসূরী প্রিয়ঙ্কার দাবি, জাতীয় গান নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই এবং এই আলোচনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সোমবার লোকসভায় ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ বিতর্কে যোগ দিয়ে প্রিয়ঙ্কা সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বন্দে মাতরম নিয়ে এই বিতর্ক কেন করছি? জাতীয় গান নিয়ে কী বিতর্ক থাকতে পারে?’’ তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের মূল সমস্যাগুলি থেকে মনযোগ অন্যদিকে সরাতে কেন্দ্রীয় সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ‘বিতর্ক’ করতে চেয়েছে।
কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়ঙ্কা গান্ধি বঢরা এই বিতর্কের কারণ হিসেবে আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের এই বিতর্কে শামিল হতে হচ্ছে, কারণ, সামনের বছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন।’’ কেন্দ্রীয় সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ একাধিক সমস্যায় জর্জরিত হলেও সরকার কোনও সমাধান ‘খুঁজে পাচ্ছে না’। প্রিয়ঙ্কার আরও অভিযোগ, শাসকদল আসলে “তাঁরা দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন, এবং দেশের জন্য বলিদান দিয়েছেন, তাঁদের কাঠগড়ায় তুলতে চাইছে।”
এর আগে এই আলোচনার সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেসের শাসনকালকে নিশানা করে প্রশ্ন তোলেন, ‘বন্দে মাতরম্-এর সঙ্গে অন্যায়, বিশ্বাসঘাতকতা কে করল?’ প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিযোগ ছিল, কংগ্রেস ‘মুসলিম লিগের চাপের সামনে আত্মসমর্পণ’ করে ‘বন্দে মাতরম্-কে টুকরো করেছিল’। তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস জানানোর ওপর জোর দেন।
প্রিয়ঙ্কার বক্তব্যের পরেই এ নিয়ে দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে বিজেপির তরফে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে স্বাধানীতা সংগ্রামের প্রতীকের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনা কেন হবে, সেই প্রশ্ন তুলছেন। যে গান ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি।”