‘চোরের উপর রাগ করে কলাপাতায় ভাত’! মুখ্যমন্ত্রীর ভালো প্রকল্প, অথচ ব্যারাকপুরে গ্যাসের কাজ বন্ধ করলেন পৌরপ্রধান

বাড়ি বাড়ি গ্যাসের সংযোগ পৌঁছে দেওয়ার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘খুব ভালো উদ্যোগ’ হওয়া সত্ত্বেও, ব্যারাকপুর পৌরসভা এলাকায় গ্যাসের পাইপ লাইন বসানোর কাজ আচমকাই বন্ধের নির্দেশ দিলেন পৌরপ্রধান উত্তম দাস। তাঁর এই সিদ্ধান্তের কারণ ঘিরে বিতর্ক শুরু হলেও, পৌরপ্রধান অবশ্য নিজের যুক্তি দিয়েছেন।

পৌরপ্রধান উত্তম দাস নিউজ ১৮ বাংলাকে জানান, বেঙ্গল গ্যাসের সঙ্গে রাজ্যের সহযোগিতায় সাত-আট মাস আগে কাজ শুরু হয় এবং বহু জায়গায় পাইপ বসানো হয়ে বাড়িতে সংযোগও পৌঁছেছে। কিন্তু, তাঁর মূল আপত্তি মোটা পাইপগুলি রাস্তার ধারে দীর্ঘ দিন ধরে ফেলে রাখা নিয়ে। তিনি বলেন, “পুজো থেকে পাইপগুলি রাস্তার ধার থেকে সরাতে বলা হচ্ছে। তারপরও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এটা উদ্বেগের, কারণ সাধারণ মানুষের অসুবিধা হচ্ছে এবং যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” বেঙ্গল গ্যাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেও কাজ না হওয়ায় তিনি বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন।

তবে কতদিন কাজ বন্ধ থাকবে? পৌরপ্রধান বলেন, “ওরা রাস্তার ধার থেকে পাইপগুলি সরাবে বলেছে। এক সপ্তাহ সময় চেয়েছে। রাস্তার ধার থেকে পাইপ সরালে আবার কাজ শুরু হবে।”

পৌরসভার এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ব্যারাকপুরবাসীর মধ্যে। রাস্তার ধারে যাঁদের বাড়ি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পাইপ পড়ে থাকায় চলাফেরার অসুবিধা এবং দুর্ঘটনার সম্ভাবনার কথা স্বীকার করেছেন। তবে প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অনেকে। গোবিন্দ ঘোষ নামে একজন বলেন, “এই সিদ্ধান্ত চোরের উপর রাগ করে কলাপাতায় ভাত খাওয়ার মতো। এটা ভাল প্রকল্প। বাড়িতে বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে যাবে। প্রকল্পটা বন্ধ রাখা উচিত হয়নি।” কেউ কেউ মনে করেন, পৌরসভা নিজেই পে লোডার দিয়ে পাইপগুলি সরিয়ে কাজটি চালু রাখতে পারত।

স্থানীয় বিজেপি নেতা দিব্যেন্দু দাসের মতে, উন্নয়নের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়। তিনি বলেন, “ব্যারাকপুরে অনেক জায়গা রয়েছে। তেমন মনে হলে, রাতের বেলা মানুষ যখন রাস্তায় কম থাকে, তখন অন্য জায়গায় নিয়ে গিয়ে পাইপগুলি রাখা যেতে পারত।”