‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’র চরম দাপট! কেরলে আক্রান্ত ১৭০, মৃত্যু ৪২ — সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে খিঁচুনি—এইসব উপসর্গ নিয়েই এক প্রাণঘাতী রোগ ছড়িয়ে পড়েছে কেরল রাজ্যে, যার পোশাকি নাম প্রাইমারি অ্যামিওবিক মেনিঙ্গোএনসেফেলাইটিস (PAM)। মস্তিষ্কে সরাসরি আঘাত হানার কারণে এটি পরিচিতি লাভ করেছে ‘ব্রেন-ইটিং অ্যামিবা’ নামে। আর এর জন্য দায়ী হল ‘নায়েগলেরিয়া ফওলেরি’ নামে একটি এককোষী পরজীবী (প্যারাসাইট)।

পুজোর ঠিক আগে দক্ষিণের এই রাজ্যে এই রোগের প্রকোপ দেখা দিলেও, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান সারা দেশের উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়েছে। এই প্রেক্ষিতেই লোকসভায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব।

📈 মাত্র ১ বছরে আক্রান্ত ১৭০, ৪২ জনের মৃত্যু

লোকসভায় লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৫ সালে কেরলে ‘ব্রেন-খেকো অ্যামিবা’তে আক্রান্ত হয়েছেন ১৭০ জন। এর মধ্যে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দেড় বছরের পরিসংখ্যান দেখলে দেখা যায়, ২০২৩ সাল থেকে কেরলে মোট ২১১ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সংক্ষেপে রোগের প্রকোপ:

বছর আক্রান্তের সংখ্যা মৃত্যুর সংখ্যা
২০২৩ ২ ২
২০২৪ ৩৯ ৯
২০২৫ ১৭০ ৪২
মোট (২০২৩-২০২৫) ২১১ ৫৩

২০২৩ সালে যেখানে মাত্র দুটি কেস ধরা পড়েছিল, সেখানে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে ১৭০ হওয়াটা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। উল্লেখ্য, এই রোগে সারা বিশ্বে গত কয়েক বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫০০। সেখানে শুধু কেরলেই এই রোগের এমন বাড়বাড়ন্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

🔬 নজরে আইসিএমআর ও এনসিডিসি

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী তাঁর উত্তরে গত বছরের জুলাই মাসে কোঝিকোড়ে জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (NCDC)-এর করা একটি গবেষণার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, অ্যামিবিক মেনিনগোএনসেফালাইটিসের এই বাড়বাড়ন্তের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চ-স্তরের বৈঠক হয়েছে।

বর্তমানে এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)। এছাড়া ১৮টি ভাইরাস গবেষণা ও ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি (VRDL)-ও এই বিষয়টির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষকেও সতর্ক করা হচ্ছে।

❗ পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

যদিও এই রোগের প্রকোপ মূলত কেরল রাজ্যে দেখা গিয়েছে, তবুও এটি যে পশ্চিমবঙ্গেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, সেই বিষয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই পরজীবী সাধারণত পরিষ্কার, উষ্ণ জলের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে, যার ফলে প্রাথমিক সংক্রমণ এড়াতে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।