আড়াই বছরের কুর্সি দ্বন্দ্ব মেটাতে রফাসূত্র? ফের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক ডাকলেন ডিকে শিবকুমার, চর্চা তুঙ্গে!

কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার (DK Shivakumar) এবার মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে (Siddaramaiah) তাঁর বেঙ্গালুরু বাসভবনে প্রাতরাশ বৈঠকের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত শুক্রবারই সিদ্দারামাইয়ার বাসভবনে এই দুই হেভিওয়েট নেতা প্রাতরাশ সেরেছিলেন, যেখানে কুর্সির দ্বন্দ্ব নিয়ে চরম টানাপোড়েনের মধ্যে তাঁরা হাসিমুখে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’-এর বার্তা তুলে ধরেন।

তবে, প্রথম বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছিলেন— “তাঁর এবং শিবকুমারের মধ্যে এখন কোনো মতপার্থক্য নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।” তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা ২০২৮ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসকে ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

দ্বন্দ্ব কেন তুঙ্গে?

মুখ্যমন্ত্রী কে থাকবেন, সেই বিষয়টি কংগ্রেস হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বলে সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট করলেও, আসল দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের পাঁচ বছরের মেয়াদের অর্ধেক সময় (আড়াই বছর) অতিক্রম করার পর।

ডিকে গোষ্ঠীর দাবি: সরকার গঠনের সময় মৌখিকভাবে স্থির হয়েছিল যে সিদ্দারামাইয়া আড়াই বছর পর মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি শিবকুমারকে ছেড়ে দেবেন। এই শর্ত মনে করিয়ে দিতে ডিকে শিবকুমারের শিবিরের বেশ কয়েকজন বিধায়ক দিল্লিতে গিয়ে হাইকমান্ডের উপর চাপ বাড়িয়েছিলেন।

সিদ্দারামাইয়ার অনড়তা: অন্যদিকে, সিদ্দারামাইয়া কোনো আপোসে রাজি নন। উল্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি পুরো পাঁচ বছরই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন।

রফাসূত্র ও দ্বিতীয় বৈঠকের প্রশ্ন

উত্তেজনা নিরসনের জন্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং রাহুল গান্ধী দিল্লিতে বৈঠক করার পর একটি রফাসূত্র বের হয় বলে জানা যায়। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সেই বৈঠকে স্থির হয়েছে—

শিবকুমার আপাতত উপ-মুখ্যমন্ত্রী ও দলের প্রদেশ সভাপতির দায়িত্বেই থাকবেন।

আগামী নির্বাচনে কর্নাটকে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মুখ হবেন শিবকুমার।

বর্তমান সরকারে তাঁর গোষ্ঠীর একাধিক বিধায়ককে মন্ত্রী করা হবে।

একবার রফাসূত্র বের হওয়ার পরও ফের কেন কর্নাটক কংগ্রেসের হেভিওয়েট এই দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হবে, সেই প্রশ্নই এখন রাজ্যজুড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে।