ভারতের এক বিস্ময়! ৬০০ বছরের পুরনো এই মন্দিরের চূড়ার ছায়া দুপুরেও স্পর্শ করে না মাটিকে, রহস্য আজও অমীমাংসিত

৬০০ বছরেরও বেশি পুরনো এক অলৌকিক স্থাপত্য, যার মহিমা স্বয়ং ব্রহ্মাণ্ড পুরাণেও উল্লিখিত। প্রাচীন ভারতীয় নির্মাণশৈলীর এক বিশেষ নিদর্শন হিসাবে, তামিলনাড়ুর মাদুরাইতে অবস্থিত এই বিষ্ণু মন্দিরটি দেশের বিখ্যাত মন্দিরগুলির মধ্যে নিজের স্থান করে নিয়েছে। পাণ্ড্য রাজাদের রাজত্বকালে নির্মিত এই মন্দিরটির রহস্য আজও বিজ্ঞানী ও ভক্তদের কৌতূহল বাড়িয়ে চলেছে।
এই মন্দিরটি ভগবান বিষ্ণুর ১০৮টি ‘ঐশ্বরিক গুণ সম্পন্ন’ মন্দির বা ‘দিব্য দেশম’-এর অন্যতম। মন্দিরের মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে এর শিখরে থাকা আটটি স্তম্ভযুক্ত চূড়ার মধ্যে। বিশাল গ্রানাইটের উঁচু দেওয়াল দ্বারা বেষ্টিত এই মন্দিরের চূড়াটি এমন সূক্ষ্ম প্রকৌশলে তৈরি যে বেলা ২টার প্রখর রোদেও এর ছায়া মাটিতে পড়তে দেখা যায় না। এর কারণ কি শুধুমাত্র অসাধারণ গঠনশৈলী নাকি এর পিছনে কোনো ঐশ্বরিক শক্তি বিদ্যমান, তা আজও এক অমীমাংসিত প্রশ্ন।
পৌরাণিক জনশ্রুতি ও অলৌকিক মহিমা
মন্দিরটিকে ঘিরে একাধিক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে, একবার সোমকা নামে এক রাক্ষস ব্রহ্মার কাছ থেকে চারটি বেদ চুরি করে নিয়ে যায়। তখন ভগবান বিষ্ণু ‘কুডল অজগর’ (Koodal Azhagar) রূপে অবতীর্ণ হয়ে রাক্ষসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং বেদগুলি পুনরুদ্ধার করেন।
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণ অনুসারে, ১২ জন আলোয়ার সাধুদের মধ্যে একজন বিষ্ণুভক্ত সাধু একবার পাণ্ড্য রাজার দরবারে আসেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি এমনভাবে ভগবানের মহিমার গুণকীর্তন করেন যে স্বয়ং বিষ্ণু ‘কুডল অজগর’ অবতারে উপস্থিত হয়ে তাঁকে আশীর্বাদ প্রদান করেন।
নবগ্রহ ও দেব-দেবীর সমাহার
অসাধারণ স্থাপত্যের এই মন্দিরে প্রবেশ করা মাত্রই নবকাশী, দশাবতার, ঋষি-মুনি, লক্ষ্মী-নরসিংহ, লক্ষ্মী-নারায়ণ এবং নারায়ণ মূর্তির দর্শন পাওয়া যায়। এমনকি, এই মন্দিরের চত্বরে নবগ্রহের অবস্থানও বর্তমান। মূল মন্দির ছাড়াও এখানে মা লক্ষ্মী, শ্রীরাম, শ্রীকৃষ্ণ এবং অন্যান্য দেবতাদের জন্য ছোট ছোট মন্দিরও রয়েছে।
তামিলনাড়ু পর্যটন বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইটে মন্দিরটি সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া থাকলেও, মন্দিরের মূল আকর্ষণ এখনও এর ‘ছায়াহীন চূড়া’। এই অসামান্য স্থাপত্যের কারিগরি কৌশল আধুনিক প্রকৌশলকেও চ্যালেঞ্জ জানায়, এবং একই সাথে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগায়— এটা কি শুধুমাত্র মানবীয় স্থাপত্যের চরম নিদর্শন নাকি কোনো অলৌকিক শক্তির প্রকাশ?