আল কায়েদার সঙ্গে যোগ! বাংলাদেশের গ্রামীণ নেটওয়ার্ক ও মহম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

শান্তিতে নোবেলজয়ী এবং বর্তমানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আল কায়েদার সঙ্গে যোগসাজশের বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যম সম্প্রতি এক তদন্তমূলক রিপোর্টে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে।
রিপোর্টে কী অভিযোগ?
বাংলাদেশের ওই সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রামীণ নেটওয়ার্কে এমন কিছু ব্যক্তি বিনিয়োগ করেছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ওসামা বিন লাদেন এবং আল কায়েদা নেটওয়ার্কে আর্থিক সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। রিপোর্টে পশ্চিমী তদন্তকারী সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্যের উল্লেখ করা হয়েছে এবং দাবি করা হয়েছে যে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত সিআইএ-র নথিতেও এই তথ্যের সমর্থন রয়েছে।
গ্রামীণ নেটওয়ার্কের সঙ্গে আল কায়েদার যোগসাজশের মূল অভিযোগটি উঠেছে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী মহম্মদ আব্দুল লতিফ জামিলকে ঘিরে। রিপোর্ট অনুসারে, এই জামিল ৯/১১-র মাস্টারমাইন্ড লাদেনের আল কায়েদাকে টাকা দিতেন। আবার এই মহম্মদ আব্দুল লতিফ জামিলই ইউনূসের গ্রামীণ মাইক্রোফিন্যান্স সংস্থার বোর্ড মেম্বার এবং গ্রামীণ-জামিল মাইক্রোফিন্যান্স নামে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা পরিচালনা করেন। এই সংস্থার সদর দফতর দুবাইয়ে এবং তুরস্ক পর্যন্ত এর ব্যবসা বিস্তৃত। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সংস্থার আরেক কর্তা ইউসুফ জামিলের নাম কুখ্যাত ‘এপস্টাইন’ কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়েছে।
হিলারি ক্লিনটনের হস্তক্ষেপ ও অঙ্গ পাচারের অভিযোগ
রিপোর্টে আরও দুটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে:
আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তদন্ত বন্ধ: বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্ত শুরু হলেও পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটনের কূটনৈতিক চাপে সেই তদন্ত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রিপোর্টে হিলারির সঙ্গে ইউনূসের ‘গোপন আঁতাত’-এর ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মানব অঙ্গ পাচার চক্রের যোগ: গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ঋণ মেটাতে না পারলে ঋণগ্রহীতাদের অঙ্গ বিক্রি করতেও হত বলে অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মানব অঙ্গ পাচার চক্রের সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ঘনিষ্ঠ যোগ থাকার দাবি করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
ওই সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক মহম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও ড. ইউনূস কিংবা তাঁর দফতরের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।