হাওড়ার নিশ্চিন্দায় TMC প্রধানকে লক্ষ্য করে গুলি! মাঝরাতে দুষ্কৃতীর হামলায় জখম সঙ্গীও, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানার সাঁপুইপাড়া এলাকায় দুষ্কৃতীর গুলিতে গুরুতর জখম হলেন বসুকাঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং তৃণমূলের স্থানীয় অঞ্চলের চেয়ারম্যান বাবু মণ্ডল। তাঁর সঙ্গী অনুপম রাণাও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উত্তর হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই হামলার জেরে গোটা অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

বাড়ি ফেরার পথে অতর্কিত হামলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মারফত জানা গেছে, রাত প্রায় ১১টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। অনুপম রাণার মোটরবাইকে চেপে বাবু মণ্ডল বাড়ি ফিরছিলেন। পথেই পিছন দিক থেকে আরও একটি বাইকে চেপে দুই দুষ্কৃতী এসে তাঁদের পথ আটকায়। অত্যন্ত কাছ থেকে বাবু মণ্ডলকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তাঁর কোমর ও কাঁধে গুলি লাগে। অনুপম রাণা বাধা দিতে এগিয়ে গেলে তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দ্রুত চম্পট দেয় হামলাকারীরা।

রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ধারে লুটিয়ে পড়েন দুই তৃণমূল নেতা। স্থানীয়দের তৎপরতায় তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালে বিধায়ক ও তৃণমূল নেতৃত্ব হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালে ছুটে যান হাওড়া জেলা (সদর) তৃণমূল সভাপতি ও বিধায়ক গৌতম চৌধুরী, বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ, যুব তৃণমূল নেতা নূরজ মোল্লা-সহ দলের বহু নেতা-কর্মী। বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হামলার কারণ অনুমান করা কঠিন। দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। মাঝরাতে এই গুলিবর্ষণের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে হিংসা ও ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। স্থানীয় মহল মনে করছে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ধারাবাহিক সংঘর্ষ-হামলার ঘটনায় হাওড়ার রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।