ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা বৃদ্ধি, এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বর, গণতান্ত্রিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্য কমিশনের

দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসিআই) ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ২০২৫-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে এনুমারেশন ফর্ম (ইএফ) জমা দেওয়ার সময়সীমা ২৮ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। এরপর আগামী ৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।

সময় বাড়ানোর কারণ ও প্রভাব
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে কমিশনের লক্ষ্য—যাতে কোনো বৈধ ভোটার বাদ না পড়ে এবং সবাই অবাধে তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এই বাড়তি সময় ভোটার এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) মধ্যে আশার আলো জ্বালিয়েছে, কারণ অনেকে আগের ডেডলাইনের চাপে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কমিশনের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ফর্ম বিতরণ এবং ডিজিটাইজেশনের কাজে বিলম্ব হচ্ছে। এই অভিযানটি ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে, যা প্রায় ৫১ কোটি ভোটারকে প্রভাবিত করছে।

ফর্ম বিতরণ: এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৯.৯৩% ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে (মোট ৫০.৬৩ কোটি ফর্ম)। গোয়া এবং লক্ষদ্বীপে ১০০% বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

ডিজিটাইজেশন: এখন পর্যন্ত ৬৮.৪০% ফর্ম ডিজিটালাইজড হয়েছে (৩৪.৮৬ কোটি ফর্মের সমান)। কমিশন আশা করছে, ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে। বিএলওরা প্রতি ফর্ম আপলোডে গড়ে ১০ মিনিট সময় নিচ্ছেন এবং কিছু অ্যাপের গ্লিচের কারণে তাঁরা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন।

SIR-এর মূল উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া
এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য হল—ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, দ্বিগুণ নাম এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের যোগ করা।

ফর্ম জমা পদ্ধতি: বিএলওরা ঘরে এসে প্রি-প্রিন্টেড ফর্ম দিচ্ছেন, যেখানে ভোটারের নাম, ছবি ও অন্যান্য বিবরণ আগে থেকে লেখা থাকে। ভোটারদের শুধু স্বাক্ষর করে তা জমা দিতে হবে।

পরিচয় যাচাই: নতুন ফর্মে ২০০২-২০০৫ সালের পুরনো তালিকায় নিজের বা অভিভাবকের নাম খুঁজে বের করার একটি বিশেষ অংশ যোগ করা হয়েছে, যা পরিচয় যাচাইয়ে সাহায্য করবে। আধার কার্ড পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার হতে পারে, তবে কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে না।

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর: যদি কোনো ভোটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফর্ম জমা দিতে না পারেন, তবে ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তাঁরা ফর্ম ৬ (নতুন ভোটারদের জন্য) জমা দিয়ে অ্যানেক্সচার আইভি সহ আবেদন করতে পারবেন। স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের (ইআরও) সামনে শুনানির পর নাম যোগ হবে।

চূড়ান্ত তালিকা: ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।

ভোটাররা ইসিআই-এর নেট অ্যাপ বা ১৯৫০ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে এই বিষয়ে আরও সাহায্য নিতে পারেন।