বারাসত মর্গ-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, মৃত যুবকের চোখ ‘চুরি’ নয়, খুবলে নিয়েছিল ইঁদুর! তদন্ত কমিটির রিপোর্টে নতুন তথ্য

মৃত্যুর পর বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গ থেকে পথ দুর্ঘটনায় মৃত যুবক প্রীতম ঘোষের (৩৫) চোখ ‘চুরি’র অভিযোগ তুলেছিল তাঁর পরিবার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দেন এবং চাকরির আশ্বাস দেন (যা পরে দেওয়া হয়েছে)। সেই নির্দেশ মতো বিশেষজ্ঞ তিন চিকিৎসককে নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট:
বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত কমিটি বুধবার মৃত যুবকের দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করায়। সেই রিপোর্ট রাতেই স্বাস্থ্য ভবনে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রিপোর্টে চোখ ‘চুরির’ কোনও উল্লেখ করা হয়নি। বরং এর নেপথ্যে কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে ইঁদুর জাতীয় কোনও প্রাণীকে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা বলেন:
“প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত যুবকের দেহ থেকে চোখ ‘চুরি’ হয়েছে এমন কোনও প্রমাণ হাতে পাননি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি। প্রাথমিক রিপোর্টে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইঁদুর জাতীয় কোনও প্রাণী যুবকের চোখ খুবলে নিয়েছে। আমরা রিপোর্টে এটাও জানিয়েছি, অস্ত্রোপচার করে চোখ ‘চুরি’র যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই অভিযোগেরও কোনও সত্যতা নেই।”
তিনি আরও জানান, চোখের নেত্রালয়ের কিছুটা অংশ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রমাণ করে চোখ তুলে নেওয়ার কোনও বিষয় এর মধ্যে নেই।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া: রিপোর্ট প্রহসন
তদন্ত কমিটির এই রিপোর্টকে সরাসরি ‘প্রহসন’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির তারকা নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। বারাসত হাসপাতালে বিক্ষোভ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে এসে তিনি বলেন:
“যেখানে বিচারক এবং বিচারালয় দু’জনেই একই পরিবারের লোক, সেখানে কে, কার বিচার করবে? কার বিরুদ্ধে বিচার হবে? তদন্তের নামে প্রহসন হবে সেটা সকলেই জানে।”
তিনি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের চোখ চুরির চেষ্টা প্রতিনিয়ত করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা অন্যায়, চুরি, দুর্নীতি করবেন। আর পুলিশ-অপরাধীদের দিয়ে এমন ভাবে চোখ চুরি করাবেন যে তাঁরা কোনও অন্যায়ই দেখতে পাবেন না।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
এই ঘটনার পরেই বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছে। এমএসভিপি অভিজিৎ সাহা জানান, মর্গের ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে নিয়ন্ত্রিত হলেও, রাতে মরদেহ হস্তান্তরের সময় কোনো ভাবে দরজার ফাঁক দিয়ে ইঁদুর ঢুকে থাকতে পারে।
ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে— বারাসত হাসপাতালের পুরনো মর্গ সরিয়ে ফেলা হবে। নতুন একাডেমিক বিল্ডিংয়ে ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের অধীনে শীঘ্রই নতুন মর্গ তৈরি হবে এবং সেখানে ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে।