বক্স অফিসে ঝড়ের ইঙ্গিত, তবুও ‘তেরে ইশ্‌ক মেঁ’-এর টিকিট বিক্রি বন্ধ! ডিস্ট্রিবিউটরের শর্তে সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকদের আপত্তি

ধনুষ এবং কৃতি স্যানন অভিনীত আসন্ন ছবি ‘তেরে ইশ্‌ক মেঁ’ মুক্তির মাত্র দু’দিন আগে বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেললেও, এর অগ্রিম বুকিং নিয়ে একটি বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশের বেশ কিছু সিঙ্গল স্ক্রিন হলে এখনও পর্যন্ত টিকিট বিক্রি শুরুই হয়নি।

ডিস্ট্রিবিউটরের দাবি ও সংঘাতের কারণ
এই অচলাবস্থার মূলে রয়েছে ডিস্ট্রিবিউটর অনিল ঠাকরানির এএ ফিল্মস-এর একটি নির্দিষ্ট দাবি, যা মানতে নারাজ হল মালিকেরা।

প্রথম শর্ত: এই সপ্তাহে হলে ‘তেরে ইশ্‌ক মেঁ’-এর সব শো চালাতেই হবে—এই অংশে সবাই রাজি।

দ্বিতীয় শর্ত: পরের সপ্তাহেও ‘তেরে ইশ্‌ক মেঁ’-এর দু’টি শো চালানোর অঙ্গীকার করতে হবে। হল মালিকদের ছবিটি মুক্তির অনুমতি পেতে হলে এই দু’টি নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক।

রণবীর সিং-এর ‘ধুরন্ধর’ নিয়ে উদ্বেগ
হল মালিকদের আপত্তির প্রধান কারণ হল দ্বিতীয় শর্তটি। পরের শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর মুক্তি পাচ্ছে রণবীর সিং অভিনীত বড় ছবি ‘ধুরন্ধর’।

যদি সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকরা ডিস্ট্রিবিউটরের শর্ত মেনে নেন, তবে ‘ধুরন্ধর’–এর জন্য তাঁদের মাত্র দু’টি শো ছাড়তে হবে।

মালিকরা এই চাপের সঙ্গে একমত নন। তাঁরা ‘ধুরন্ধর’কেও সমান সংখ্যায় স্ক্রিনিং দিতে চান, কারণ এই দুটি ছবিই বক্স অফিসে সাফল্যের মুখ দেখতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদী।

সূত্র জানাচ্ছে, ‘সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকরা চান দ্রুত এই অচলাবস্থা কাটুক। বুকিং দেখে তাঁরা যথেষ্টই আশাবাদী। গোটা মাসে কোনও রিলিজই সিঙ্গল স্ক্রিনে সফল হয়নি… তাই ‘তেরে ইশ্‌ক মেঁ’ এবং ‘ধুরন্ধর’—দুই ছবিই তারা চালাতে মরিয়া।’

টলিউডের অভিজ্ঞতা ও সমাধান
মুম্বইয়ের এই সমস্যাটি পশ্চিমবঙ্গের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও (টলিউড) বহুবার দেখা গিয়েছে। শো ভাগাভাগি নিয়ে প্রযোজক-ডিস্ট্রিবিউটর দ্বন্দ্ব বহু পুরোনো।

২০২৩ সালের বিতর্ক: ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের ‘পাঠান’–এর জন্য কিছু সিঙ্গল স্ক্রিন হলে জোর করে শো বরাদ্দ করতে গিয়ে চলতে থাকা বাংলা ছবিগুলোর শো কেটে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে নির্মাতা ও প্রযোজকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ: এই সমস্যা মেটাতে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট রাজ্য সরকার নির্দেশ দেয় যে, রাজ্যের সব প্রেক্ষাগৃহ ও মাল্টিপ্লেক্সে প্রতিদিন অন্তত একটি বাংলা ছবির প্রাইম-টাইম শো রাখা বাধ্যতামূলক।

মুম্বইয়ের হল মালিকরা আশাবাদী যে আলোচনার পথ খুললেই দেশের সব প্রেক্ষাগৃহে একযোগে বুকিং শুরু হবে। এখন দেখার, মুক্তির আগমুহূর্তে এই অচলাবস্থা দূর হয় কিনা।