২৬/১১ মুম্বই হামলার ১৭তম বার্ষিকীতে নিহতদের শ্রদ্ধা ফরাসি রাষ্ট্রদূতের, ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ভারতের পাশে’

২০০৮ সালে মুম্বইয়ে ঘটা ২৬/১১ জঙ্গি হামলার ১৭তম বার্ষিকীতে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত, থিয়েরি ম্যাথিউ। তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের দ্ব্যর্থহীন নিন্দার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং স্পষ্ট জানিয়েছেন যে এই বিপদ মোকাবিলায় ফ্রান্স ভারতের পাশে আছে।

২৬/১১-এর সেই ভয়াবহতা
২০০৮ সালের ২৬শে নভেম্বর পাকিস্তানের মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তৈবা (LeT)-র ১০ জন জঙ্গি সমুদ্রপথে মুম্বই শহরে প্রবেশ করে চার দিন ধরে এক সমন্বিত তাণ্ডব চালায়। এই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন এবং ৩০০ জন আহত হন।

টার্গেটে থাকা স্থানসমূহ: জঙ্গিরা সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলতে পারে এমন জায়গাগুলি সাবধানে বেছে নিয়েছিল। সেগুলির মধ্যে ছিল—তাজ ও ওবেরয় হোটেল, ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ টার্মিনাস (CSMT), নরিম্যান হাউসের ইহুদি কেন্দ্র, কামা হাসপাতাল, মেট্রো সিনেমা এবং লিওপোল্ড ক্যাফে। এই স্থানগুলি বিদেশী নাগরিক এবং মুম্বইয়ের কর্মজীবীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

হামলার স্থায়ী ক্ষত
এই মর্মান্তিক ঘটনার ক্ষত আজও মুম্বইয়ের প্রত্যক্ষদর্শীদের এবং প্রিয়জন হারানো পরিবারগুলোকে তাড়া করে ফেরে।

স্মৃতিচিহ্ন: লিওপোল্ড ক্যাফে এবং নরিম্যান হাউসের বুলেটের চিহ্নগুলি, একমাত্র জীবিত জঙ্গি মোহাম্মদ আজমল আমির কাসাবকে ধরার সময় জীবন উৎসর্গকারী সাহসী পুলিশ অফিসার সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর তুকারাম ওম্বলের মূর্তি এবং দক্ষিণ মুম্বইয়ের রাস্তাগুলি সেই হামলার স্মৃতি বহন করে চলেছে।

কাসাবের পরিণতি: নয়জন LeT জঙ্গি নিহত হয়েছিল এবং কাসাবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১০ সালের মে মাসে কাসাবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং দুই বছর পর ২০১২ সালে পুনের একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়।

ফরাসি রাষ্ট্রদূতের এই বার্তা বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্সের সংকল্পকে আরও একবার তুলে ধরল।