মর্গ থেকে চোখ চুরির অভিযোগে বারাসত হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আটকে বিক্ষোভ, পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দিলেন মমতা

মর্গ থেকে এক মৃত ব্যক্তির চোখ চুরির মতো ভয়াবহ অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা ঘিরে সৃষ্ট ক্ষোভে মঙ্গলবার হাসপাতালের চত্বরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় আটকে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজনরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলে মৃতের পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির কথা বলেছেন।
দুর্ঘটনার পর মর্গে রহস্য
মৃতের নাম প্রীতম ঘোষ (৩৫)। তিনি কাজীপাড়া নেতাজিনগরের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করতেন। সোমবার ভোরে কাজীপাড়া রেলগেট সংলগ্ন যশোররোডে একটি ছোট মালবাহী গাড়ির ধাক্কায় তাঁর মৃত্যু হয়। বারাসত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করার পর ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ মর্গে রাখা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে পরিবার সৎকারের জন্য মৃতদেহ নিতে মর্গে আসে। অভিযোগ, তখনই তাঁরা দেখেন প্রীতমের চোখে তুলসী পাতা দেওয়া। সন্দেহ হওয়ায় তুলসী পাতা সরাতেই দেখা যায় একটি চোখ নেই।
পরিবারের অভিযোগ: ‘অঙ্গ পাচার চক্র’
ক্ষোভে ফেটে পড়ে মৃতের পরিবার। প্রীতম ঘোষের এক আত্মীয়ার অভিযোগ, “আমরা দেহ নেওয়ার সময় দেখি একটা চোখ নেই। হাসপাতাল বলছে ইঁদুর চোখ নিয়ে গিয়েছে। যদি তাই হতো তাহলে, তার চিহ্ন থাকত। এখানে অঙ্গ পাচার চক্র চলছে।”
যদিও মৃতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর অভিযোগ করেন, “কিছু হলেই চাকরি আর টাকার লোভ দেখায় এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস ও নির্দেশ
বনগাঁয় রাজনৈতিক সভা শেষে কলকাতায় ফিরছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখে তিনি কনভয় থামিয়ে দেন এবং মৃতের পরিবারের সদস্যদের ডেকে কথা বলেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তদন্তের নির্দেশ দিলাম। যদি এই ঘটনা কেউ করে থাকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হবে। যে পরিবারের সঙ্গে এমনটা হয়েছে, তাদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পরিবার বিচার পাবে। অপরাধ করে থাকলে শাস্তি দেওয়া হবে।”
চাকরির প্রতিশ্রুতি: উপস্থিত পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের বাড়ির ঠিকানা লিখে নেওয়া-সহ মৃতের মায়ের বায়োডাটা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কোটায় বছরে ২টি চাকরি হয়। তারমধ্যে একটি চাকরি কাছাকাছি জায়গায় মৃতের মা পাবে, যাতে সংসার চলে। প্রথম বছর প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা করে মাইনে পাবে। তারপর পার্মানেন্ট হয়ে যাবে। ২ দিন সময় নিচ্ছি। বুধবার বাড়িতে গিয়ে বায়োডাটা নিয়ে বৃহস্পতিবার বাড়িতে চাকরির নিয়োগপত্র পোঁছে যাবে।”
এরপর কলকাতায় রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী।