‘দিল্লি-এনসিআর দূষণ আমার ছেলেকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত নিয়ে গেল’, সন্তানের অসুস্থতা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন মা

দিল্লির ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ (Delhi Air Pollution) সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে যে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ সামনে এনেছেন সাক্ষী পাহাওয়া। তাঁর ছোট্ট ছেলের শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে চিকিৎসকদের শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। ছেলের হাসপাতালে শুয়ে থাকার একটি বেদনাময় ভিডিও শেয়ার করে তিনি দিল্লি সরকার এবং প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দূষণ ঘটিত অসুস্থতা: অ্যাডিনয়েড ও টনসিলের অস্ত্রোপচার
সাক্ষী পাহাওয়া জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তাঁর পরিবার দিল্লিতে আসার পর থেকেই ছেলের শারীরিক সমস্যা বাড়তে থাকে। হালকা অ্যালার্জি ধীরে ধীরে লাগাতার শ্বাসকষ্টের রূপ নেয়।

তিনি বলেন, ধুলো ও দূষণের কারণে ছেলের অ্যালার্জি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে স্টেরয়েড স্প্রে, অ্যান্টিবায়োটিক বা হোমিওপ্যাথি—কোনও চিকিৎসাই কাজে লাগেনি। দূষণের মাত্রা বাড়তেই ছেলের শ্বাসপ্রশ্বাস আরও কঠিন হয়ে ওঠে। চিকিৎসকেরা জানান—বায়ুদূষণের ধাক্কায় ছেলের অ্যাডিনয়েড ও টনসিল স্টেজ–৪ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। অবস্থার অবনতি দেখে নাক ও গলার অপারেশন ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সাক্ষী আবেগঘন হয়ে বলেন, “অপারেশনের পর ছেলেকে এত ব্যথায় হাসপাতালে শুয়ে থাকতে দেখে আমাদের হৃদয় ভেঙে গেল।”

সরকারের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ
ছেলের যন্ত্রণার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে সাক্ষী ক্যাপশনে লেখেন: “দিল্লি–এনসিআর দূষণ শুধু নিঃশ্বাসে নয়—আমার ছেলেকে অস্ত্রোপচার পর্যন্ত ঠেলে দিয়েছে… হাসপাতালে ওর কান্না আমাদের ভেঙে দিয়েছে। আমরা ট্যাক্স দিই… এর বদলে আমাদের বাচ্চারা এটা পায়।”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “এটাই দিল্লি–এনসিআরের শিশুদের বাস্তবতা। অথচ সরকার নীরব। আমরা ট্যাক্স দিই—এটাই কি আমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ?”

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
সাক্ষীর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচুর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই শিশুটির দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং একইসঙ্গে সরকারের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাকে ট্যাগ করে লেখেন, “দয়া করে ব্যবস্থা নিন। বড়রাও শ্বাস নিতে পারছি না—এই ছোট বাচ্চারা কী করছে ভাবুন তো!”

উল্লেখ্য, দূষণের মাত্রা লাগাতার বেড়ে যাওয়ায় দিল্লি সরকার ২৪ নভেম্বর GRAP স্টেজ III অনুযায়ী একাধিক জরুরি পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে অফিসে অর্ধেক কর্মী নিয়ে কাজ চালানোর নির্দেশও রয়েছে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজন।