অসম বিধানসভায় অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা, ৫ বছরে ৩২ হাজার ‘বিদেশি’ শনাক্ত, ফেরত পাঠানো সম্ভব মাত্র ১৪১৬ জনকে

অবৈধ অনুপ্রবেশের দীর্ঘদিনের সমস্যা আবারও সামনে এল অসম বিধানসভায়। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত অসমে মোট ৩২,২০৭ জন ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বসবাসকারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীর মধ্যে মাত্র ১,৪১৬ জনকে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। শনাক্ত ও বহিষ্কৃতের সংখ্যার এই বিশাল বৈষম্য রাজ্যের ‘ডিটেকশন–ডিলিশন–ডিপোরটেশন’ (শনাক্ত, নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ ও বহিষ্কার) ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বছরভিত্তিক তথ্য ও আইনি জটিলতা
কংগ্রেস বিধায়ক আব্দুর রহিম আহমেদের প্রশ্নের জবাবে আসাম অ্যাকর্ড বাস্তবায়ন দফতরের মন্ত্রী অতুল বরা বিধানসভায় এই তথ্য দেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে ৬,৪০০ জনেরও বেশি বিদেশি শনাক্ত হয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, আইন অনুযায়ী অসমে একজনকে “বিদেশি” ঘোষণা করার ক্ষমতা কেবল ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের হাতে রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায় উচ্চতর আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ থাকায় পুরো প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হয়ে ওঠে। এছাড়াও, বিদেশি ঘোষণা হওয়ার পরেও তাঁদের নিজ দেশ (প্রধানত বাংলাদেশ) গ্রহণ করতে রাজি না হলে বহিষ্কার প্রক্রিয়াও থমকে যায়।
অতুল বোরা বলেন, অসম চুক্তি অনুযায়ী ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর পরে যাঁরা বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করেছেন, তাঁদের নাম নির্বাচনী তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর কথা। কিন্তু দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে গেলেও এই সংবেদনশীল সমস্যার সমাধান বহুলাংশে অপূর্ণ।
সীমান্ত সুরক্ষার স্থবিরতা
মন্ত্রী সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। ভারত–বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে আসামের মোট ২৬৭.৫ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে ২২৮.৫৪১ কিমিতে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
তবে শ্রীভূমির কুশিয়ারা নদীর ধারে ৪.৩৫ কিলোমিটার এলাকায় ফেন্সিংয়ের কাজ ঝুলে রয়েছে। কারণ হিসেবে মন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে এলাকা নিয়ে BGB (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ)-এর আপত্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আলোচনার আগে সেখানে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শনাক্ত হওয়া বিদেশিদের তুলনায় বহিষ্কৃতদের সংখ্যা এত কম হওয়ায় বিরোধীরা সরকারকে আক্রমণ করার নতুন হাতিয়ার পেয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রকাশের পর রাজ্যে NRC, ডিটেনশন ক্যাম্প এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।