‘বিশ্বাস করো, আমি এতটা খারাপ নই’, জামিনের পর কুণাল ঘোষকে সরাসরি ফোন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, বিধানসভায় যোগ দিতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি

এসএসসি (SSC) কাণ্ডে অভিযুক্ত, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে সরাসরি ফোন করলেন। সূত্রের খবর, কুণাল ঘোষের অস্ত্রোপচারের পরে তাঁর শারীরিক খোঁজ নিতেই এই ফোন করেছিলেন পার্থবাবু। সেই ফোনালাপে উঠে আসে নানান প্রসঙ্গ, যা এখন রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয়।

আবেগঘন ফোনালাপ
সূত্রের খবর, ফোনালাপে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বারবার কুণাল ঘোষকে বলেন, “বিশ্বাস করো, আমি চুরি করিনি। আমি এতটা খারাপ নই। আমাকে সবাই ভুল বুঝলে।”

এই ফোনালাপের বিষয়ে কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, “আমার অসুস্থতার ব্যাপারে জানতে চেয়ে ফোন করেছিলেন। একেবারেই ব্যক্তিগত ব্যাপার। আবেগঘন হয়ে তিনি কিছু কথা বলেছেন।”

বিধানসভায় ফেরার আগ্রহ
অন্যদিকে, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর বুধবারই বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠালেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি জানান যে, বিধানসভার আসন্ন অধিবেশনে তিনি যোগ দিতে চান।

কিন্তু বিধানসভা সূত্রে খবর, প্রেসিডেন্সি জেল কর্তৃপক্ষ এখনও বিধানসভাকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মুক্তির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠায়নি। জেল থেকে মুক্তির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চিঠি না পেলে তাঁর অধিবেশনে যোগ দেওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে।

কোথায় বসবেন সাসপেন্ডেড বিধায়ক?
পার্থ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূলের টিকিটে জিতলেও, দল তাঁকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করেছে। ফলে তিনি এখন আর তৃণমূল পরিবারের অংশ নন। বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশনে তিনি যোগ দিলে, তিনি কোন আসনে বসবেন তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সাধারণত, স্পিকারের ডানদিকে শাসক দল এবং বামদিকে বিরোধী বিধায়করা বসেন। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ডেড হওয়ায় তিনি নিজের পছন্দের আসনে বসতে পারবেন না। জল্পনা চলছে যে, তিনি আইএসএফের একমাত্র বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির বসার জায়গার পাশেই বসতে পারেন। যদিও শাসকদলের তরফ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ মুখ খোলেননি।