সংবিধান দিবসে গণতন্ত্রের অপমান, নির্বাচন কমিশনের দফতরে হামলার চেষ্টা, সুরক্ষার জন্য কলকাতা পুলিশকে লিখিত আবেদন

যে দিনটি দেশজুড়ে সংবিধান দিবস হিসেবে পালিত হয় এবং নাগরিকরা গণতন্ত্রের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হন, ঠিক সেই দিনেই পশ্চিমবঙ্গে সামনে এল এক চরম অস্বস্তিকর চিত্র। ভোট প্রক্রিয়াকে সুরক্ষিত রাখার সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকা নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ECI) বাধ্য হল কলকাতা পুলিশের কাছে লিখিতভাবে সুরক্ষার আবেদন জানাতে।

মুখ্য নির্বাচন অফিসারের দফতরে বিশৃঙ্খলা
অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (Special Summary Revision বা SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে শাসক দলের ‘কর্মী’ বলে পরিচিত একদল লোক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী অফিসারের দফতরে জোর করে ঢুকে পড়ে। তারা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে এবং দফতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কলকাতা পুলিশকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি সরাসরি আঘাত করছে সংবিধানের ৩২৪ থেকে ৩২৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত কমিশনের ‘স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার অধিকার’-এর ওপর।

গণতন্ত্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংবিধান দিবসের দিনে এই ঘটনা কেবল প্রশাসনিক গোলযোগ নয়, বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। যখন দেশের কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিজেই রাজ্য পুলিশের কাছে বারবার সুরক্ষার আবেদন জানাতে বাধ্য হয়, তখন প্রশ্ন ওঠে—”গণতন্ত্রের নিরাপত্তা রক্ষকই যদি নিরাপদ না হয়, তবে ভোটারদের নিরাপত্তা কোথায়?”

বিরোধীদের, বিশেষত বিজেপির, অভিযোগ— রাজ্য প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ এবং আইনশৃঙ্খলা রাজনৈতিক দলের চাপে পঙ্গু হয়ে পড়েছে। তারা দাবি করছে, তৃণমূল কংগ্রেসের ছত্রছায়ায় ভুয়ো ভোটার এবং ‘সন্দেহজনক পরিচয়’-এর নাম বাদ পড়ার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ফের হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, SIR-কে কেন্দ্র করে কিছু ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ তৈরি হলেও সেটিকে অযথা রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে। তবে ঘটনাস্থলের ফুটেজ, কমিশনের চিঠির ভাষা এবং দফতরে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যে গুরুতর, তা একপ্রকার স্পষ্ট।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, “যদি কমিশনকেই ভয়ের পরিবেশে কাজ করতে হয়, তবে স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা কীভাবে বজায় থাকবে?” সংবিধানের আদর্শের প্রতি এই ঘটনা ব্যঙ্গ বলে মনে করছেন অনেকে।