৫ শতকের অপেক্ষার অবসান! রাম মন্দির শিখরে কাল উঠবে প্রাচীন ‘রাম ধ্বজ’, সোনার বোতাম টিপে ইতিহাস গড়বেন মোদী!

পাঁচশো বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে যে শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে, সেই মন্দিরে কাল, ২৫ নভেম্বর, ভারতীয় ইতিহাসে আরেকটি স্বর্ণোজ্জ্বল পাতা যোগ হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং উপস্থিত থেকে ১৯১ ফুট উঁচু মন্দিরের শিখরে উত্তোলন করবেন প্রাচীন ‘রাম ধ্বজ’ বা গেরুয়া পতাকা।

কী আছে এই রাম ধ্বজে?
এই পতাকাটি শুধু কাপড় নয়, সনাতন ধর্মের অজেয়তার প্রতীক। ১০৮ ফুট লম্বা, এটি বিশুদ্ধ খাদি-রেশম দিয়ে হাতে কারুকাজ করা। এর মাঝে থাকবে ‘ওঁ’, সূর্যচিহ্ন এবং কোভিদার (অপরাজিতা) বৃক্ষের চিহ্ন। পতাকার সঙ্গে থাকবে ১৪ ফুট উঁচু একটি সোনালি দণ্ড।

অভিজিৎ মুহূর্তে পতাকা উত্তোলন
কাল, বিবাহ পঞ্চমীর এই শুভ তিথিতে সকাল থেকেই অনুষ্ঠান শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মা অন্নপূর্ণা মন্দিরে পূজা দেবেন, তারপর রামলালার দরবারে দর্শন করবেন। এরপর অভিজিৎ মুহূর্তে—দুপুর ১২টা ৮ মিনিটে—তিনি একটি সোনার বোতাম টিপে পতাকা উত্তোলন করবেন।

উত্তোলনের পর প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের উদ্দেশে ভাষণ দেবেন, যা ১৫০টিরও বেশি দেশে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে।

আলো-ফুল-দীপে সেজেছে অযোধ্যা
আজ থেকেই অযোধ্যা নগরী যেন এক বিশাল ফুলের বাগান। মন্দির চত্বর, সরযূ তীর থেকে শুরু করে রামপথ, ভক্তিপথ—সব রাস্তায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ১০০ টন গাঁদা, গোলাপ, জবা, চন্দনফুল। রাতে লক্ষ লক্ষ দীপের আলোয় শহরটি স্বর্গের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহে রামলালার মুখের সামনে ফুলের অপরূপ তোরণ ও সোনালি আলোর মালা। মা অন্নপূর্ণা, মহাদেব, গণেশ-কার্তিক, হনুমানগড়ি—সব উপমন্দিরগুলোও আলোকিত। সরযূর ঘাটে ঘাটে চলছে অখণ্ড রামধুন।

অতিথিদের জমায়েত
অনুষ্ঠানে প্রায় ছয় হাজার বিশিষ্ট অতিথি আমন্ত্রিত। তাঁদের মধ্যে থাকছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আরএসএস সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। বিনোদন এবং খেলার জগতের দিকপালদের মধ্যে থাকবেন অমিতাভ বচ্চন, সচিন তেন্ডুলকর, বিরাট কোহলি, প্রমুখ। শিল্পপতিদের মধ্যে মুকেশ আম্বানি, রতন টাটা এবং কাশী-অযোধ্যা-দক্ষিণ ভারতের ১০৮ জন শীর্ষ আচার্য উপস্থিত থাকবেন। নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং মরিশাসের মতো দেশের রামভক্ত প্রতিনিধিরাও এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হবেন।

নিরাপত্তা ও বিশেষ দিন
তবে সাধারণ ভক্তদের জন্য ২৫ তারিখ দর্শন বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে অযোধ্যার ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সব হোটেল-গেস্টহাউস খালি করা হয়েছে। এনএসজি, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ, আইবি—সবাই সতর্ক।

এই দিনটি আরও বিশেষ কারণ আজ বিবাহ পঞ্চমী—যা রাম ও সীতার বিবাহের দিন হিসেবে পালিত হয়। শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র বলেছেন, “এটা শুধু পতাকা উত্তোলন নয়, পাঁচশো বছরের সংগ্রামের বিজয় ঘোষণা। রামলালার মন্দির এখন সম্পূর্ণ।” যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, “কাল অযোধ্যা বিশ্বের আধ্যাত্মিক রাজধানী হয়ে উঠবে।”