স্কুলের কাছে উদ্ধার ১৬১টি জিলেটিন স্টিক, উত্তরাখণ্ডে বড় নাশকতার উদ্দেশ্য?

উত্তরাখণ্ডের আলমোরা জেলার একটি সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে ঝোপ থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক। প্রায় ১৬১টি জেলটিন স্টিক উদ্ধার হওয়ায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ইতিমধ্যেই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং কারা, কী উদ্দেশ্যে এই বিস্ফোরকগুলি স্কুলের এত কাছে রেখেছিল, তা খুঁজে বের করতে ৪টি বিশেষ দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটনাটি সামনে এলো
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। স্থানীয় ডাবরা গ্রামের ওই সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল সুভাষ সিং পুলিশকে জানান যে, স্কুলের শিশুরা খেলার সময় পাশের ঝোপের মধ্যে একটি সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পায়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। এরপর ডাকা হয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিএস) এবং ডগ স্কোয়াডকে। তল্লাশির পর নিশ্চিত হওয়া যায়, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলি হলো শক্তিশালী বিস্ফোরক জেলটিন স্টিক। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিস্ফোরক আইনের অধীনে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কী বলছে পুলিশ?
আলমোরার সিনিয়র পুলিশ সুপার (এসএসপি) দেবেন্দ্র পিঞ্চা ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “ডাবরা গ্রামে স্কুলের কাছে ঝোপঝাড় থেকে প্রায় ১৬১টি জেলটিন স্টিক পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিডিএস দলকে দিয়ে পুরো এলাকাটি তল্লাশি করায়। সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এসএসপি জনসাধারণকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন এবং জানিয়েছেন যে এই বিস্ফোরকগুলি সাধারণত রাস্তা নির্মাণে পাথর ভাঙার কাজে ব্যবহার করা হয়। তবে, এই সংবেদনশীল এলাকায় স্কুলের পাশে এতগুলি বিস্ফোরক মজুত থাকার কারণ স্পষ্ট নয়।
তদন্তের অভিমুখ
পুলিশ বর্তমানে চারটি তদন্তকারী দল গঠন করেছে। এই দলগুলি মূলত নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর নজর দিচ্ছে:
-
কে বা কারা এই বিস্ফোরকগুলি স্কুলের এত কাছে রেখেছিল?
-
এগুলো পাথর ভাঙার জন্যই আনা হয়েছিল, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল?
-
এলাকার ঠিকাদার বা নির্মাণ সংস্থাগুলির সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
পুলিশ কর্তারা আশা করছেন, দ্রুতই এই বিস্ফোরক রহস্যের জট খুলতে পারবেন।