দিল্লির বিস্ফোরণ ও বাংলাদেশ অস্থিরতা! ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা নিয়ে শিলিগুড়িতে হাই অ্যালার্ট, কেন্দ্রীয় সরকার তৎপর

প্রতিবেশী দেশ, বিশেষ করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের মতো ঘটনার প্রেক্ষিতে ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা জোরদার করতে তৎপর হল কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের ভূখণ্ডের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই করিডোরের নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে শনিবার শিলিগুড়ির সেন্ট্রাল আইবি (IB) কার্যালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৮টি নিরাপত্তা সংস্থার উপস্থিতি
এই বিশেষ বৈঠকে দেশের ১৮টিরও বেশি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা সংস্থার উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল— সিআইএসএফ (CISF), বিএসএফ (BSF), এসএসবি (SSB), আইটিবিপি (ITBP), আরপিএফ (RPF), ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা, মিলিটারি পুলিশ, আর্মি ইন্টেলিজেন্স, কেন্দ্রীয় সড়ক দফতর, এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও জিআরপি।
চিকেনস নেকের নিরাপত্তায় জোর
সূত্রের খবর, উত্তর-পূর্ব ভারতকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা এই করিডোরে যাতে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে না পারে, তার জন্য একাধিক কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
-
দ্বিগুণ তৎপরতা: সীমান্ত অঞ্চলে নজরদারি আরও কঠোর করা এবং নিরাপত্তা কর্মীদের তৎপরতা দ্বিগুণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
-
সমন্বিত নিরাপত্তা: গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর জন্য সমস্ত সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।
-
নতুন ঝুঁকি: রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশে মৌলবাদ ও জঙ্গি তৎপরতা বাড়ছে বলেও খবর রয়েছে। এই কারণে চিকেনস নেক এখন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শনিবারের বৈঠকের পর শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি সুধাকর মন্তব্য করেন, “এটি একটি রুটিন বৈঠক। নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক। প্রকাশ্যে বলার কিছু নেই।” উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের ডিভিশনাল সেফটি কমিশনার সন্দীপ কুমার বৈঠকের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সব নিরাপত্তা সংস্থা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিল। প্রত্যেকে নিজেদের নিরাপত্তা ও নজরদারি সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ পেশ করেছে। শিলিগুড়ি করিডোরের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”