শ্যুটআউট বরানগর! ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলায় গেল প্রাণে, সরকারি কর্মীকে লক্ষ্য করে চলল গুলি, কান ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ায় বরাতজোরে রক্ষা!

কলকাতার উপকণ্ঠে বরানগরের জনবহুল নর্দান পার্ক এলাকায় সাতসকালে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে বড় ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ডাস্টবিনে আবর্জনা ফেলে ফেরার সময় ট্রাম কোম্পানির এক সরকারি কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বাইক আরোহী দুই দুষ্কৃতী। বরাতজোরে রক্ষা পেলেও, গুলির বারুদ ছিটকে ওই ব্যক্তির শরীরে লাগায় তিনি জখম হয়েছেন। ঘটনার পরই দুষ্কৃতীরা বাইকে চড়ে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দিকে পালিয়ে যায়।

আচমকা হামলা, আতঙ্কে স্থানীয়রা:

জানা গিয়েছে, জখম ব্যক্তির নাম বিকাশ মজুমদার, যিনি এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকাল ৬টা ২৫ মিনিট নাগাদ আবর্জনা ফেলতে বেরিয়েছিলেন তিনি। বিকাশবাবুর অভিযোগ, আবর্জনা ফেলে ফেরার পথে অচেনা দুই বাইক আরোহী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি তৎক্ষণাৎ মাথা নিচু করায় গুলি কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। তবে বারুদ ছিটকে হাতে লাগায় সেখানে জ্বালা ও রক্তপাত শুরু হয়।

ভীতসন্ত্রস্ত বিকাশ মজুমদার বলেন, “কারও সঙ্গে আমার কোনও বিবাদ ছিল না, শত্রুও নেই। হেলমেট পরায় কাউকে চিনতে পারিনি। কেন আমার সঙ্গে এমনটা ঘটল, বুঝতে পারছি না।”

স্থানীয় বাসিন্দারাও বিকাশের নির্বিবাদী চরিত্রের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন, এমন শান্তিপ্রিয় মানুষের কোনো শত্রু থাকতে পারে না। স্থানীয়দের সন্দেহ, হয়তো কেউ দুষ্কৃতীদের ভাড়া করে তাঁকে খুন করার চেষ্টা করেছে।

পুলিশি তদন্ত শুরু, সিসিটিভি ফুটেজে ভরসা:

শান্তিপ্রিয় এই এলাকায় এমন নজিরবিহীন ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতা শুভাশিস করও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি অবিলম্বে সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ব্যারাকপুর কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এই হামলার কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নেপথ্যে পুরনো শত্রুতা রয়েছে নাকি অন্য কোনো রহস্য, তা জানতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বর্তমানে এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ আশা করছে, শীঘ্রই তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।