বেঙ্গালুরুর টেক সামিটে ‘মহাকাশ মানব’ শুভাংশু শুক্লা! কেন মানুষ মহাকাশে যায়, জানালেন ISRO-র নভোশ্চর

আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন (International Space Station – ISS) অভিযান সফল করে ফিরেছেন শুভাংশু শুক্লা। এরপর থেকেই তিনি ‘মহাকাশ মানব’ (Space Man) হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে আয়োজিত ‘ফিউচার মেকার্স কনক্লেভ’-এর বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি মহাকাশ যাত্রা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও দর্শন তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে শুভাংশু শুক্লা বলেন, এই বিশ্বে ঘটে চলা বিভিন্ন জটিল বিষয়গুলো আরও গভীরভাবে বোঝার জন্যই নভোশ্চররা মহাকাশে যাত্রা করেন। মানুষের প্রধান লক্ষ্য হল—নিজের গণ্ডীর বাইরে বেরিয়ে কাজ করা এবং যেকোনো সমস্যার সমাধান খোঁজা।
তিনি বলেন, “আমরা যখন কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজতে শুরু করি, তখন আমরা সেগুলোকে অন্যভাবে দেখি। মহাকাশ আপনাকে সব সমস্যার সমাধান খুঁজতে সাহায্য করবে এবং অন্য একটি দৃষ্টিভঙ্গি দেবে।”
মহাকাশ যাত্রায় ব্যবহৃত যানের প্রযুক্তিগত উন্নতি প্রসঙ্গে শুভাংশু জানান, ১৯৬১ সালে যেখানে মার্কারি ক্যাপসুল ব্যবহার করা হয়েছিল, সেখানে বর্তমানে অত্যাধুনিক ক্রু ড্রাগন ক্যাপসুল ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই নতুন ক্যাপসুলে কোনো হ্যান্ডেল বা ম্যানুয়াল সিস্টেম নেই। ড্রাগন ক্যাপসুল ওড়ানোর পুরো পদ্ধতিটি নিয়ন্ত্রণ করা হয় টাচস্ক্রিন সিস্টেম থেকে। শুভাংশুর মতে, প্রযুক্তির উন্নতির জন্যই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক সহজতর হয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে শুভাংশু শুক্লা জানান, “সাড়ে চার বছর ধরে আমি প্রশিক্ষণ নিয়েছি। আমি পুরোটাই শিখেছিলাম এবং আত্মবিশ্বাস ছিল। কিন্তু ভূপৃষ্ঠ ছাড়ার যে মুহূর্তে রকেট থেকে আগুন বেরোনো শুরু করবে, সব ভুলে যাবে তুমি। কারণ পুরো সিস্টেমটি অতি ক্ষমতাসম্পন্ন এবং ভীষণ দ্রুত কাজ করে।”
এই প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ওই ড্রাগন ক্যাপসুলটির গতিবেগ মাত্র সাড়ে আট মিনিটে প্রতি ঘণ্টায় ০ থেকে ২৮ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছেছিল। এমন অবিশ্বাস্য গতিবেগ তিনি এর আগে কখনই প্রত্যক্ষ করেননি বলে জানান।