‘আই লাভ জয়ন্তী’ বনাম বন দফতর, বিনা অনুমতিতে সেলফি জোন ভাঙায় ক্ষুব্ধ তৃণমূল, বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

‘আই লাভ জয়ন্তী’ লেখা একটি সেলফি জোনকে কেন্দ্র করে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জয়ন্তী এলাকায় বন দফতরের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বন দফতরের অনুমতি ছাড়াই এটি তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠার পর, তা ভেঙে দেওয়া হয়। এরই প্রতিবাদে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা বন দফতরের অফিসগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গল ঘেরা জয়ন্তী নদীর ধার পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ। অভিযোগ, এই নদীর ধারে একটি ধাবার ভিতরে বন দফতরের অনুমতি ছাড়াই ‘আই লাভ জয়ন্তী’ লিখে একটি সেলফি জোন বানানো হচ্ছিল। খবর পেয়ে বুধবার সন্ধ্যায় বন দফতর ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই সেলফি জোনটি ভেঙে দেয়।
তৃণমূলের প্রতিবাদ:
বন দফতরের এই পদক্ষেপের প্রতিবাদে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা, কর্মী ও সমর্থকরা বুধবার সন্ধ্যায় জয়ন্তী রেঞ্জের চেকপোস্ট গেট, রেঞ্জ অফিস এবং বনবাংলাতে তালা ঝুলিয়ে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ।
বৃহস্পতিবার অবশ্য সেই পতাকা লাগানো অবস্থাতেই চেকপোস্ট এবং রেঞ্জ অফিস খোলা দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে বন দফতর থেকে কোনও স্পষ্ট সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
তৃণমূল নেতার ক্ষোভ:
রাজাভাতখাওয়ার অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বিজয় শর্মা এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন,
“বক্সাতেও লেখা রয়েছে ‘আই লাভ বক্সা’ ৷ জয়ন্তীতেও একটি ধাবার সামনে ওরা নিজের উঠোনে টাকা পয়সা খরচ করে লিখছিল ‘আই লাভ জয়ন্তী’ ৷ বন দফতর গিয়ে তাতে অবজেকশন করে এবং কোনও সময় না-দিয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে সেটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। জয়ন্তীবাসীদের নিয়ে বন দফতর যে ছেলেখেলা করছে সেটি আমরা মানছি না।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন যে, এই সমস্যার সমাধান না-হলে আগামী দিনে জয়ন্তীবাসীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে এবং প্রয়োজনে ডিএফডি (DFD) ও এফডি (FD) অফিস ঘেরাও করা হবে।
এ বিষয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডিএফডি ইস্ট দেবাশিস শর্মা বা ক্ষেত্র অধিকর্তা অপূর্ব সেনের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।