সোনামুখীর প্রবেশপথেই প্রাচীন রহস্য! স্থানীয়রা বলেন ‘ভূতুরে বাড়ি’, আসলে সেটি এক ব্রিটিশ ডাক্তারের নীলকুঠি

বাঁকুড়ার প্রাচীন বাণিজ্য নগরী সোনামুখী শহরে প্রবেশ করলেই বাঁ দিকে চোখে পড়বে একটি প্রাচীন স্থাপত্য, যা স্থানীয়দের কাছে ‘হানাবাড়ি’ বা ‘নীলকুঠি’ নামে পরিচিত। বাড়িটি কার, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঁকুড়ার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
ডাক্তার থেকে ব্যবসায়ী:
স্থানীয় ইতিহাসবিদদের মতে, এই বাড়িটি ছিল এক ব্রিটিশ ডাক্তারের—নাম ডক্টর জে এন চিক (Dr. J. N. Chick)। পেশায় ডাক্তার হলেও, মনে প্রাণে তিনি ছিলেন একজন ধুরন্ধর ব্যবসায়ী। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসক হয়ে তিনি বাঁকুড়া, বর্ধমান এবং সোনামুখীর শাসনভার সামলাতেন।
সোনামুখীতে পদার্পণের পরেই ‘চিক সাহেব’ (কেউ কেউ অপভ্রংশ করে বলতেন চিফ সাহেব) বুঝেছিলেন এই অঞ্চলে রেশম, গালা এবং সবচেয়ে লাভজনক নীল চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
তখন থেকেই এই কুঠিতে শুরু হয় নীল চাষের কারবার। ফলে এই বাড়িটি হয়ে ওঠে সোনামুখী বাণিজ্য নগরীর নীল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
এই প্রাচীন স্থাপত্য আজও সোনামুখী শহরের বুকে সেই ঔপনিবেশিক বাণিজ্যের স্মৃতি বহন করে চলেছে, যা স্থানীয়দের কাছে এখনও এক রহস্যের আধার।