“বাংলায় প্রতিদিন সার্কাস চলছে”, রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত ও ‘কাদা ছোড়াছুড়ি’ নিয়ে তীব্র কটাক্ষ অধীর-সেলিমের

রাজভবনে বোমা, গুলি, বন্দুক রাখার অভিযোগ তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজভবনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি কল্যাণের বিরুদ্ধে অভিযোগও দায়ের করেছেন। রাজ্য ও রাজ্যপাল সংঘাতের এই ‘পরস্পর কাদা ছোড়াছুড়ি’ নিয়ে এবার তীব্র কটাক্ষ করলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী।

“নবান্ন ও রাজভবনের যৌথ উদ্যোগে সার্কাস”: অধীর

কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী এই সংঘাতকে ‘হাস্যকর’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “বাংলায় প্রতিদিন সার্কাস চলছে। হয় নবান্নে, না হয় রাজভবনে। বাংলায় শাসক এবং রাজ্যপাল হাস্যকর কাজ করছেন।”

রাজ্যপালের ভূমিকার সমালোচনা করে অধীর বলেন:

“বিষয়টা খুব হাস্যকর। কখনও রাজ্যের শাসকদল রাজভবনের বিরুদ্ধে নারী নিগ্রহের অভিযোগ তুলছে। কখনও রাজ্যপাল নিজেই রাজভবনের ভিতরে তল্লাশি চালাচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, রাজভবন কখনও একজনের সম্পত্তি নয়। এটার ঐতিহ্য আছে, গরিমা আছে। কারও ভালো লাগা, রোমাঞ্চের জায়গা নয় যে, কেউ একদিন পুলিশ ডেকে তল্লাশি করাল।”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “সত্যিই যদি সেখানে দুষ্কৃতী থাকে তাহলে সেখানে কলকাতা পুলিশ বোকার মতো বসে আছে কেন? দায়-দায়িত্ব কার উপর বর্তাবে? এটা সকলেই জানে। তাই, সমস্তটাই নবান্ন ও রাজভবনের যৌথ উদ্যোগে সার্কাস চলছে।”

‘ধনখড়-টুইট যুদ্ধ’ টেনে আনলেন সেলিম:

সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বর্তমান রাজ্যপালের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে তুলনা টানেন। তিনি বলেন, “এর আগে আমরা ধনখড়কে টুইট-যুদ্ধে মাততে দেখেছি। জগদীশ ধনখড়, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিংয়ে মিটিং করেছেন একসময়। সেটা খবর। কিন্তু, শিক্ষার ১২টা বেজে গিয়েছে সেটা খবর নয়।”

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ও পরিচয়পত্র ইস্যু:

একইসঙ্গে, SIR পর্বে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশিদের ঘরে ফেরা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন দুই বিরোধী নেতা।

মহম্মদ সেলিম: “আতঙ্ক তৈরি হলে যা হয়। বেঙ্গালুরু, মহারাষ্ট্রে এমন হয়েছিল। বিজেপি, তৃণমূল মিলে যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে এটা তার ফল। সীমানা দেখবে কেন্দ্র, আর পরিচয় পত্র করেছে কারা? তৃণমূল।”

অধীররঞ্জন চৌধুরী: “কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দায়িত্বে থাকা সীমান্ত দিয়ে এদেশে ঢুকল। যাঁদের জাল সার্টিফিকেট তৈরি করে দিল তৃণমূল। আবার প্রয়োজন ফুরালে তাঁদের নিয়ে রাজনীতি করছে।”