নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছাত্রীর হাত মচকানোর অভিযোগ! যাদবপুর থেকে নিষিদ্ধ ৪ পড়ুয়া, কী বললেন উপাচার্য?

আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ক্যাম্পাসে কয়েকজন ছাত্রীকে কটূক্তি করার এবং নীতিপুলিশির প্রতিবাদ করায় এক ছাত্রকে ফেলে মারধর করার গুরুতর অভিযোগে চার পড়ুয়ার ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ করল কর্তৃপক্ষ।
নীতিপুলিশি ও বচসার সূত্রপাত
গতকাল অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যায় যাদবপুরের খেলার মাঠে দু’পক্ষের মধ্যে বচসার সূত্রপাত হয়। একপক্ষে ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পড়ুয়ারা এবং অপরপক্ষে কলা বিভাগের পড়ুয়ারা।
নীতিপুলিশির অভিযোগ: জানা গিয়েছে, চার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ার দাবি ছিল, ক্যাম্পাসের ভিতরে হাত ধরে হাঁটা যাবে না, কারণ ক্যাম্পাস কোনও প্রেম-পিরিতি করার জায়গা নয়। এভাবেই তারা নীতিপুলিশি চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবাদ ও হাতাহাতি: কলা বিভাগের পড়ুয়ারা এই আচরণের প্রতিবাদ জানালে বচসা হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগ, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওই পড়ুয়ারা আর্টসের ছাত্রীদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। ছাত্রীরা প্রশ্ন করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
অভিযোগকারিনী ছাত্রী অনুষ্ণা দাস বলেন, “আমাদের মধ্যে দুজন ক্যাম্পাসের ভিতরে হাত ধরে হাঁটছিল। সেই সময় সৃজনরা ক্যাম্পাসের ভিতরে বসে নেশা করছিল। ওরা ওই ছেলে আর মেয়েটিকে প্রশ্ন করে—ক্যাম্পাস কি প্রেম করার জায়গা? এটা কি পার্ক? যাঁদের বলা হয়েছিল, সেই ছেলে আর মেয়েটি প্রশ্ন করায় সৃজন সর্দার ওই মেয়েটির হাত মচকে দেয়।”
মারধর ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
অভিযোগ, বচসার সময় এক ছাত্রকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। যে চারজন অভিযুক্তের নাম সামনে এসেছে, তারা হল:
পৃথ্বীশ দাস, সৃজন সর্দার (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র)
অমিত ধীবর (প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র)
ধ্রুব মাহাত (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র)
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত এই চার পড়ুয়ার ক্যাম্পাসে ঢোকা নিষিদ্ধ করেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করার তা করা হবে। কোনও পড়ুয়ার কেরিয়ার নষ্ট হোক, তা বিশ্ববিদ্যালয় চায় না।”
যদিও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে এই ঘটনায় যাদবপুর ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।