লালকেল্লা বিস্ফোরণের দায় স্বীকার! ‘আমরা প্রত্যাঘাত করেছি’, প্রাক্তন পাক নেতার মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ গাড়িবোমা বিস্ফোরণের দায় এবার সরাসরি নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ বাড়ালেন পাক (পাকিস্তান) অধিকৃত কাশ্মীরের প্রাক্তন ‘প্রধানমন্ত্রী’ আনোয়ারুল হক। কট্টর ভারতবিরোধী হিসাবে পরিচিত এই নেতা বুধবার প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, “আমি আগেই বলেছিলাম, তোমরা যদি বালোচিস্তানে রক্ত ঝরাতে থাকো, তা হলে আমরা ভারতের কাশ্মীরের জঙ্গল থেকে লালকেল্লা পর্যন্ত প্রত্যাঘাত করব। আমরা সেটা করে দেখিয়েছি। ওরা এখনও মৃতদেহ গুণে চলেছে!”
আনোয়ারুল বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য। তাঁর এই সরাসরি স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তাঁদের মতে, সরকারি পদে থাকা কোনও নেতার এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
তদন্তে ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’
গত ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় লালকেল্লার কাছে গাড়িবোমা বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের তদন্তে ক্রমেই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’।
বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ধৃতদের প্রত্যেকেরই হরিয়ানার ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যোগাযোগ ছিল।
জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মুজাম্মিল আহমেদ এবং শাহিন শাহিদকে।
গ্রেফতার হয়েছেন বিস্ফোরণের ‘মানববোমা’ উমর-উন-নবিও, যাকে হামলার মূল কার্যনির্বাহী হিসেবে দেখছে পুলিশ।
আনোয়ারুল হকের এই সরাসরি দায় স্বীকারের দাবি পাকিস্তানের প্রশাসন, রাজনীতি এবং সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলির পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও উন্মোচিত করল বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারতের তরফ থেকে এই বিস্ফোরণ-পরবর্তী তদন্ত জোরদার করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।