২৬৭ আরোহী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে ফেরি, অলৌকিকভাবে রক্ষা পেল ২৪৬ জন

২০১৪ সালের সেওয়াল ফেরি দুর্ঘটনার সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি যেন মুহূর্তের জন্য ফিরে এসেছিল দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলবর্তী এলাকায়। বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিপুল আরোহী নিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল আরও একটি যাত্রীবাহী ফেরি।

জানা গিয়েছে, ‘কুইন জেনুভিয়া-২’ নামের ফেরিটি ২৬৭ জন আরোহী নিয়ে একটি প্রবালপ্রাচীরে (Reef) ধাক্কা খেয়ে বর্তমানে সেখানে আটকে রয়েছে।

জনবসতিহীন দ্বীপে বিপদ, তৎপর কোস্টগার্ড

স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে শিনান কাউন্টির জাংগসান দ্বীপের কাছাকাছি জনবসতিহীন জোগদো দ্বীপের পাশে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পাথরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ফেরিটি আটকে যায়।

  • যাত্রী সংখ্যা: ফেরিতে ২৪৬ জন যাত্রী এবং ২১ জন ক্রু সহ মোট ২৬৭ জন আরোহী ছিলেন।

  • ক্ষয়ক্ষতি: প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় মাত্র পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। কোনো প্রাণহানির খবর নেই, যা এই আকারের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এক অলৌকিক স্বস্তির খবর।

  • উদ্ধার কাজ: কোরীয় কোস্টগার্ড দ্রুত জানিয়েছে, ফেরিটি ডুবে যাওয়ার বা উল্টে যাওয়ার ঝুঁকি নেই। কিন্তু দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে এবং যাত্রীদের নৌকায় তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশ

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সোক দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে সব ধরনের নৌযান ঘটনাস্থলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, “আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে ফেরির ভেতরে কোনো জল প্রবেশ করেনি। যাত্রীদের টহল নৌকায় তুলে নিরাপদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” কর্তৃপক্ষ এখন জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে জোয়ারের সময় ফেরিটিকে তীরবর্তী এলাকায় সরিয়ে নেওয়া যায়।

জেজু পর্যটন দ্বীপ থেকে যাত্রা করে ফেরিটি মকপো বন্দরের দিকে যাচ্ছিল, সেই পথেই এটি দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। উল্লেখ্য, এই দুর্ঘটনার স্থানটি ২০১৪ সালে সেওয়াল ফেরি দুর্ঘটনার স্থান থেকে খুব বেশি দূরে নয়, যেখানে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।