‘মানসিকভাবে বিধ্বস্ত!’ নির্বাচন কমিশনের লাগাতার সমালোচনা করায় রাহুল গান্ধীকে খোলা চিঠি দিলেন ২৭২ জন বিশিষ্ট নাগরিক!

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-র লাগাতার সমালোচনা এবার সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অবসরপ্রাপ্ত পদস্থ সরকারি আধিকারিক, বিচারপতি এবং সেনা কর্তারা সহ মোট ২৭২ জন বিশিষ্ট নাগরিক কংগ্রেস নেতার উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন।

এই বিশিষ্ট নাগরিকেরা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ যে অভিযোগ তুলেছেন, তাকে ‘অবিশ্বাস্য’ এবং ‘অশোভন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

বিশিষ্টদের মূল বক্তব্য:

মানসিক চাপ: তাঁরা মনে করেন, নির্বাচনী লড়াইয়ে লাগাতার পরাজয়ের কারণে রাহুল গান্ধী ‘মানসিকভাবে বিধ্বস্ত’, সেই কারণেই তিনি নির্বাচন কমিশনকে মাত্রাতিরিক্ত আক্রমণ করছেন।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আঘাত: তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একজন দায়িত্বশীল নেতার লাগাতার এমন আক্রমণ ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে গুরুতর পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দেবে, যা গণতন্ত্রের জন্য বড় ধাক্কা।

অপ্রমাণিত অভিযোগ: দিল্লি হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এসএন ধিংরা এবং ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন ডিজিপি নির্মল কৌর মন্তব্য করেন যে কিছু রাজনৈতিক নেতা নীতিগত বিকল্প প্রস্তাব দেওয়ার পরিবর্তে তাদের নাটকীয় রাজনৈতিক কৌশলে উস্কানিমূলক কিন্তু অপ্রমাণিত অভিযোগের আশ্রয় নেন। তাঁরা বলেন, এই নেতারা ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো প্রতিষ্ঠানকেও কলঙ্কিত করার চেষ্টা করেছেন।

‘পরমাণু বোমা’ মন্তব্য নিয়ে বিস্ময়: চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা রাহুলের সেই মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন তাঁর কাছে ভোট চুরির যে প্রমাণ রয়েছে তা একটি ‘পরমাণু বোমা’ এবং এটি বিস্ফোরিত হলে কমিশনের লুকানোর জায়গা থাকবে না।

রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস বিহারে ভোট বিপর্যয়ের জন্য কমিশনকে কাঠগড়ায় তুলে ভোটার তালিকা থেকে শাসক-বিরোধী ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এর আগে মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও কর্ণাটকের ভোট নিয়েও তিনি গুরুতর অভিযোগ করেন।

বিজেপি ইতোমধ্যে রাহুলের এই অভিযোগ নিয়ে পাল্টা তোপ দেগেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী প্রচারে রাহুলের নাম না করে কমিশনের উপর আক্রমণ করার তীব্র নিন্দা করেছিলেন। এবার দলীয় রাজনীতির বাইরে সমাজের এই প্রভাবশালী অংশও সরব হলেন। তবে এই বিষয়ে রাহুল বা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ১৬ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, ১১৩ জন আমলা এবং সেনাবাহিনীর ১৩৩ জন অফিসার।