দুর্গাপুরে ‘ভাইজান’-এর জয়জয়কার! নওশাদ সিদ্দিকীর আদর্শে দুর্গাপুরে প্রথম উড়ল আইএসএফের পতাকা, সংখ্যালঘুদের মধ্যে নতুন সমীকরণ!

এই প্রথমবার দুর্গাপুর শহরে উড়ল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর পতাকা। ভাইজান নওশাদ সিদ্দিকীকে তাঁদের আদর্শ মেনে বুধবার দুর্গাপুর নগর নিগমের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু যুবক নিজেদের এলাকায় আইএসএফের প্রচার শুরু করলেন।

দুর্গাপুর মহকুমায় এটি একটি অন্য রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর মহকুমা জুড়ে নওশাদের দলের কোনো উপস্থিতি দেখা যায়নি। কিন্তু এবার মহকুমার বিভিন্ন বিধানসভা এলাকার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে আইএসএফের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

দুর্গাপুর কর্পোরেশনে আইএসএফের প্রবেশ:

কয়েকদিন আগে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার জেমুয়া ও আরতি গ্রামে আইএসএফের পতাকা হাতে নিয়ে কয়েকশো যুবক প্রচারে নেমেছিলেন। এবার নজিরবিহীনভাবে দুর্গাপুর নগর নিগমের ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে সর্বপ্রথম ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আমরাই গ্রামের প্রায় শ’খানেক যুবক বুধবার সকাল থেকে নিজেদের ওয়ার্ডে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আইএসএফের পতাকা বেঁধেছেন।

আমরাই গ্রামের যুবক শেখ মহসিন আলি বলেন, “এ রাজ্যে ২৯৪ জন বিধায়কের মধ্যে নওশাদ সিদ্দিকীকেই দেখা যাচ্ছে প্রতিবাদ করতে। আমরা তাঁকে আদর্শ মনে করছি। তাই এই রাজ্য এবং দেশকে বাঁচাতে ও জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে আমাদের রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ভাইজানের দেখানো পথে কাজ করে যেতে চাই।”

রাজনৈতিক তরজা:

আইএসএফের এই সক্রিয়তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা:

তৃণমূলের অভিযোগ: তৃণমূল কংগ্রেসের ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তিনি অভিযোগ করেন, আরতি গ্রাম থেকে কিছু যুবক ‘উস্কানি দিয়ে’ আইএসএফ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, যা ব্যর্থ হবে। তাঁর মতে, ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু মানুষজন তৃণমূলকেই ভরসা করেন। তবে তিনি এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া: পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিজেপির সহ-সভাপতি অভিজিৎ দত্ত এই ঘটনাকে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, সংখ্যালঘুরা বুঝতে পারছেন যে শাসকদল এতদিন ‘টুপি পরিয়ে’ বিজেপির ভয় দেখিয়ে তাদের নিজেদের সঙ্গে রেখেছিল। তিনি মনে করেন, আইএসএফের সঙ্গে মতাদর্শ মেলায় তারা যুক্ত হচ্ছেন এবং এর প্রভাব নির্বাচনে পড়বে।

শাসকদলের উচ্চ নেতৃত্ব যদিও এটিকে নির্বাচনের আগে শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর বিজেপির কৌশল বলে অভিযোগ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে ভোটের সময় এরাই আবার শাসকদলের সঙ্গ দেবে।