মৃত্যুকে হার মানাবে ‘অপ্টিমাস’! হুবহু ‘ডিজিটাল মানুষ’ তৈরি করবে মাস্কের রোবট

মানব সভ্যতার ইতিহাস বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে টেসলার সিইও ইলন মাস্ক-এর তৈরি করা যুগান্তকারী হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপ্টিমাস’ (Optimus)। এই রোবট শুধু দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করবে না, বরং মাস্কের দাবি অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এটি মানুষের ‘ডিজিটাল কপি’ তৈরি করতেও সক্ষম হবে।
মাস্কের মতে, একসময় অপ্টিমাস একটি মানুষের চেতনা, ব্যক্তিত্ব এবং স্মৃতিশক্তি ‘অধিগ্রহণ’ করতে পারবে এবং হুবহু সেই মানুষটির মতো হয়ে উঠতে পারবে!
কীভাবে কাজ করবে এই রোবট?
অপ্টিমাস-এর ধারণাটি প্রথম প্রকাশ করা হয় ২০২১ সালে। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় এবং বাইপেডাল (দুই পায়ে হাঁটতে সক্ষম) রোবট।
শারীরিক গঠন: রোবটটির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৫৬ কেজি। এটি হাঁটাচলা এবং জিনিসপত্র তোলা-রাখা, ঘর মোছা, সামগ্রী সাজানো— এমন সাধারণ দৈনন্দিন কাজ সহজেই করতে পারে।
কৃত্রিম মস্তিষ্ক: মাস্ক জানিয়েছেন, অপ্টিমাস-এর মস্তিষ্কে কাজ করছে টেসলার নিজস্ব তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। এটি নিউরালিঙ্ক প্রযুক্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যা মানুষের মস্তিষ্কের সূক্ষ্ম কার্যকলাপগুলি শনাক্ত করতে পারে।
চেতনা আপলোড: ভবিষ্যতে কোনো মানুষের মস্তিষ্কে কী চলছে, সেই চেতনা, স্মৃতি এবং ব্যক্তিত্বের তথ্য শনাক্ত করে তা সরাসরি অপ্টিমাসে আপলোড করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ, একটি মানুষের চেতনাকে পুরোপুরি একটি রোবটে প্রতিফলিত করা সম্ভব হবে, যা কার্যত মানুষকে ডিজিটাল অমরত্ব দেওয়ার দিকে এক ধাপ এগিয়ে দেবে।
কবে হবে বাস্তবায়ন?
ইলন মাস্ক সতর্ক করেছেন, এই প্রযুক্তি দ্রুত এসে যাবে না। বর্তমানে প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে দ্রুত গতিতে চলা উন্নয়নের কারণে তিনি অত্যন্ত আশাবাদী। তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী— পরবর্তী ২০ বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতে পারে।
মানব শ্রমের বিকল্প
টেসলার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অপ্টিমাস মানব শ্রম হ্রাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এটি সাধারণ গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি বিপজ্জনক বা একঘেয়ে কাজেও মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হবে।
এছাড়াও, শিক্ষাক্ষেত্র, স্বাস্থ্যসেবা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল উৎপাদন এবং গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও এর বিশাল প্রয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে।
অপ্টিমাস এখন শুধু একটি রোবট নয়, বরং এটি প্রযুক্তি এবং মানবজাতির এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। নিঃসন্দেহে এটি ভবিষ্যতে মানুষের জীবনধারা, ধ্যানধারণা এবং মানব অস্তিত্বের সংজ্ঞা পাল্টে দিতে পারে।