বিহার ভোটে ‘শূন্য’র দায় কাঁধে নিলেন প্রশান্ত কিশোর! হার স্বীকার করে ২০ নভেম্বর ‘নীরব অনশন’-এর ঘোষণা!

বিহার বিধানসভা নির্বাচন ২০২৫-এ রাজনৈতিক অভিষেকের পরেই ভরাডুবি হল ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের দল ‘জন সূরয’-এর। ২৩৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েও একটিতেও জয়লাভ করতে পারেনি দলটি, যার ফলস্বরূপ তাদের আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ‘শূন্য’। শুক্রবার ফলাফল ঘোষণার পর, মঙ্গলবার প্রথমবার মুখ খুলে এই ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।

ব্যর্থতার ১০০% দায় স্বীকার:

সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, দলের রাজনৈতিক ব্যর্থতা প্রসঙ্গে প্রশান্ত কিশোর সৎ চেষ্টার কথা বললেও, শেষমেশ হার স্বীকার করে নেন। যদিও প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল, এই নির্বাচনে জন সূরয বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে, দলটি মাত্র ৩.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে, এমনকি ৬৮টি বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ছিল নোটা (NOTA)-র চেয়েও কম।

দলের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে প্রশান্ত কিশোর বলেন, “আমাদের প্রচেষ্টায়, আমাদের চিন্তাভাবনায়, আমরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছি, তাতে জনগণ আমাদের নির্বাচিত করেনি, তাতে অবশ্যই কিছু ভুল ছিল। যদি জনগণ আমাদের উপর আস্থা না দেখায়, তাহলে তার দায় সম্পূর্ণরূপে আমার।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি ১০০ শতাংশ নিজের উপর দায়িত্ব নিচ্ছি, যে আমি বিহারের জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারিনি।”

প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে নীরব অনশন:

দলের এই বিপর্যয়কে প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে গ্রহণ করে প্রশান্ত কিশোর এক দিনের নীরব অনশন পালনের ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “বিহারের জনগণকে আমি ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ হয়েছি যে, তাদের ভোট দেওয়ার ভিত্তি কী এবং কেন তাদের একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরি করা উচিত।”

তাঁর সংযোজন, “তাই, প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে, আমি ২০শে নভেম্বর গান্ধী ভিতিহারওয়া আশ্রমে একদিনব্যাপী নীরব অনশন পালন করব… আমরা হয়তো ভুল করেছি, কিন্তু আমরা কোনও অপরাধ করিনি।” নির্বাচনের আগেই প্রশান্ত কিশোর বলেছিলেন, তাঁর দল হয় থাকবে “আর্শ পর” (চরম সাফল্যের শিখরে) নয় “ফর্শ পর” (সম্পূর্ণ ব্যর্থতার মুখে)—মাঝামাঝি কোনো স্থান থাকবে না। ফলাফলে তার প্রতিফলন ঘটায়, সম্পূর্ণ দায়ভার নিজেই গ্রহণ করলেন এই ভোট কুশলী।