৫০ টাকায় শুরু, আজ লক্ষাধিক টাকার বাজেট! পূর্ব মেদিনীপুরের কার্তিক পুজোয় কেন ৫১ জন পুরোহিত?

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর দুই ব্লকের ইটাচনা গ্রামে প্রায় দুই দশক আগে মাত্র ৫০ টাকা দিয়ে যে কার্তিক পুজোর সূচনা হয়েছিল, আজ তা লক্ষাধিক টাকার বাজেটের এক বিশাল উৎসবে পরিণত হয়েছে। ইটাচনা গ্রামের ‘আমরা কজন কার্তিক পুজো কমিটি’-র উদ্যোগে আয়োজিত এই পুজো বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
কার্তিক পুজোর বিশেষ আকর্ষণ:
৫১টি মূর্তি, ৫১ জন পুরোহিত: এই পুজোর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল—একই সুবিশাল মণ্ডপে কার্তিকের মোট ৫১টি মূর্তি স্থাপন করে পুজো করা হয়। প্রতিটি মূর্তির জন্য আলাদা ৫১ জন পুরোহিত নিযুক্ত থাকেন।
বিশাল মেলা: পুজোকে কেন্দ্র করে এই গ্রামে বসে পাঁচ দিনব্যাপী বিশাল মেলা। জিলিপি, খেলনা, পোশাক, খাবার থেকে শুরু করে হাতের কাজের দোকান—সবকিছুর পসরা নিয়ে মেলা প্রাঙ্গণ সজ্জিত থাকে।
নরনারায়ণ সেবা: প্রতি বছর এই পুজোয় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়।
১৮ বছর আগে এলাকার কয়েকজন যুবক মিলে ক্লাব গঠন করে ছোট পরিসরে এই পুজো শুরু করেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লোকমুখে এই পুজোর কথা ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা বাড়তে থাকে। ফলস্বরূপ, ছোট্ট মণ্ডপ আজ দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জা ও বিশাল মণ্ডপের রূপ নিয়েছে।
বিপুল সংখ্যক ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে সিভিক ভলান্টিয়ারের পাশাপাশি ক্লাবের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করে। সন্ধ্যা নামতেই মেলায় ভিড় আরও বেড়ে যায়। পুজোকে ঘিরে প্রত্যেকদিন নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকসংগীত এবং নাচগানের আয়োজন করা হয়। মাত্র ৫০ টাকায় শুরু হওয়া এই পুজো আজ রাজ্যের এক ধর্মীয় ও লোক-সাংস্কৃতিক দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিত।