পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও আর বাধা নেই! রূপান্তরকামীদের ‘বিশেষ সুরক্ষা’ দিতে নির্দেশিকা জারি করল CEO দফতর

ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় যেসব ভোটারের নাম ২০০২ সালের তালিকায় নেই, তাঁদের বাবা-মায়ের পরিচয় দিয়ে নতুন সংশোধিত তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া বড় বাধা সৃষ্টি করে। এই সমস্যা নিয়েই সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে হাজির হয়েছিল রূপান্তরকামীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন।
আশ্বাসে স্বস্তি, জারি নির্দেশিকা
সংগঠনগুলি সিইও (CEO) দফতরে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি করে, যে সমস্ত রূপান্তরকামী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এবং যাঁদের নাম ২০০২ সালের সংশোধিত তালিকায় নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নামের জায়গায় ‘গুরু মা’-র নাম ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হোক।
রূপান্তরকামীদের এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে কমিশন ‘বিশেষ সুরক্ষা’ দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর আশ্বাস দিয়েছে যে, নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও রকম অসুবিধা হবে না। এই আশ্বাসের পর মঙ্গলবার রাজ্যের জেলাশাসকদের কাছে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়ে দিয়েছে সিইও দফতর। নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে:
রূপান্তরকামীরা আত্মীয়ের জায়গায় নিজেদের গুরু মায়ের নাম ও তথ্য দিতে পারবেন।
নাম অন্তর্ভুক্তির সময় তাঁরা যেন কোনও রকম হেনস্থার সম্মুখীন না হন, সেদিকে জেলাশাসকদের নজর রাখতে হবে।
ভুয়ো ভোটার ধরতে এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
এদিকে, রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (SIR) মাঝে ভুয়ো ভোটার রুখতে বাড়তি তৎপর হয়েছে কমিশন। কেউ ভুয়ো ছবি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম তুলছেন কি না, তা ধরতে ব্যবহার করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)।
কমিশন সূত্রে খবর, একটি নির্দিষ্ট এআই-সম্পন্ন অ্যাপ দিয়ে ছবি স্ক্যান করা হবে। এই অ্যাপটি ছবি স্ক্যান করেই বলে দিতে পারবে যে, ছবিটি ভুয়ো নাকি আসল। আগামী ৯ ডিসেম্বরের পর এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে কমিশন। বাংলা-সহ গোটা দেশে যেসব রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর কাজ চলছে, সেখানেই এই অ্যাপ ব্যবহার করা হবে।