২৬-শের নির্বাচনে BJP-র কী প্ল্যান? TMC-র বড় নেতাদের দলে টানা হবে কি? জেনেনিন বিস্তারিত

বিহারে জয়লাভের পর এক নতুন আত্মবিশ্বাস ও ‘অক্সিজেন’ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। হাতে আর এক বছরের কিছু বেশি সময়, সামনেই ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে ‘মিশন বাংলা’ সামনে রেখে এবার রাজ্যজুড়ে জোরদার প্রস্তুতিতে নামছে বিজেপি।
বিজেপি সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রধান ফোকাস এবার সাংগঠনিক স্তরে একতা ও সমন্বয়। দলের নীচুতলার নেতা-কর্মীদের মধ্যেকার যাবতীয় বিভেদ দূর করে একযোগে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০২৬-এর ভোটে বিজেপি-র প্রধান প্ল্যান কী?
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে মহিলা সুরক্ষাই সবচেয়ে বড় ইস্যু হতে পারে। আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার ক্রমাগত অবনতিকে রাজ্যের মানুষের সামনে জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
টার্গেট ‘জঙ্গলরাজ’: বিহারে লালুপ্রসাদের RJD-কে পরাস্ত করতে বিজেপি বারবার ‘জঙ্গলরাজ’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করেছে। বিহার ভোটের ফল ঘোষণার দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও শোনা যায়, বাংলা থেকে ‘জঙ্গলরাজ’ উপড়ে ফেলার ডাক।
রাজ্যের মানুষের কাছে ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিজেপি-র সরাসরি বার্তা হতে চলেছে: “ভালভাবে জীবনযাপন চাইলে বিজেপি-কে ভোট দিন। বাঁচতে চাইলে বিজেপি-কে ভোট দিন।” মহিলা সুরক্ষা ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের লাগামহীন বেকারত্ব এবং কাজের খোঁজে রাজ্য ছেড়ে ভিনরাজ্যে চলে যাওয়ার মতো জ্বলন্ত ইস্যুগুলিও তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি।
⛔ ‘বড় নেতা’ নয়, ফোকাস শুধু ‘গ্রাউন্ড-ওয়ার্কার’-দের উপর
বিজেপি সূত্রের খবর, এই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বড় নেতাদের’ দলে নেওয়ার কোনো সক্রিয় পরিকল্পনা নেই। কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কৌশল খুব একটা লাভদায়ক হয়নি। তবে, বুথ ধরে রাখার জন্য তৃণমূলের কর্মীস্তর বা গ্রাউন্ড-ওয়ার্কারদের দলে টানতে বিজেপি রাজি, যাতে নিচুতলায় সংগঠনকে আরও মজবুত করা যায়।
🤝 সাংগঠনিক মজবুতি ও একতায় কেন্দ্রীয় নির্দেশ
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যের সমস্ত বিজেপি নেতাকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠীতে বিভক্ত ইউনিটগুলিকে একজোট করতে হবে। আগামী দিনে গোটা রাজ্যেই পদযাত্রা করবে বঙ্গ বিজেপি।
বুথ স্তরে কাজ: তৃণমূলস্তরে সংগঠনকে মজবুত করার কাজ হবে জোরকদমে। রাজ্যের ৯১ হাজার বুথের মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার বুথ সমিতি তৈরি করা হবে। ভোটার লিস্ট দেখে বুথ কমিটিগুলির পুনর্গঠন করা হবে।
‘বংশবাদ’ ফ্যাক্টর: তৃণমূল কংগ্রেসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে যে অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও অসন্তোষের গুঞ্জন উঠছে, বিজেপি তার উপর কড়া নজর রাখছে। এই বিষয়টিকে **’বংশবাদ’ (Dynasty Politics)**এর ইস্যুর সঙ্গে জুড়ে জনমানসে তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে দল।
🎯 জাতপাত নয়, টার্গেট ১৬০ থেকে ১৭০ আসন
বিজেপি-র অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ণ বলছে, বাংলায় জাতপাতের রাজনীতি বিহার বা উত্তর প্রদেশের মতো ততটা কার্যকর নয়। তাই দল এই নির্বাচনে জাতিগত সমীকরণের উপর অতটা নির্ভর করবে না।
ধর্মীয় মেরুকরণ: বিজেপি নেতারা মনে করেন, প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি আসনে মুসলিম ভোট নির্ণায়ক ভূমিকা নেয়। সেই কেন্দ্রগুলিতে এমনিতেই হিন্দু ভোটের পাল্টা মেরুকরণ দেখা যায়। যেহেতু দল হিসেবে বিজেপি-র পরিচিতিই হিন্দুত্বভিত্তিক, তাই অতিরিক্তভাবে হিন্দুত্বের ইস্যু বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
বিজেপি-র হিসেব অনুযায়ী, গত কয়েকটি নির্বাচনে তারা কোনো না কোনোভাবে মোট ১২১টি আসন জিতেছে। এই আসনগুলোকেই শক্তিশালী ভিত্তি ধরে সর্বশক্তি নিয়োগ করা হবে। দলের টার্গেট এবার ১৬০ থেকে ১৭০টি আসন জেতা। এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে প্রার্থী বাছাইয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।