ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বর্বর’ হামলা, নিন্দা করলো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র

ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সাথে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী ইউরোপের বৃহত্তম রেল ও সড়ক সেতুতে ভয়াবহ হামলার জবাবে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক মিসাইল হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। সোমবার পূর্ব ইউরোপের এই দেশটির বিভিন্ন শহরে কার্যত মিসাইল বৃষ্টি চালায় রাশিয়া।

যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো কিয়েভের কেন্দ্রস্থলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোসহ ইউক্রেনজুড়ে বহু শহরে বোমাবর্ষণের পরে ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার মুখে পড়েছে রাশিয়া। সোমবারের এই হামলাকে ‘বর্বর’ বলে আখ্যায়িত করে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বলেছে রাশিয়ার ‘নিষ্ঠুর’ এই হামলা একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিশুদের খেলার মাঠসহ বেসামরিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে। একইসঙ্গে রুশ হামলা মোকাবিলায় চলমান সামরিক সহায়তা আরও বাড়ানোরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় জাতিসংঘের প্রধান আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, তিনি ‘গভীরভাবে শোকাহত’। অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার সাথে ক্রিমিয়ার সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে শনিবারের বিস্ফোরণের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইউক্রেন বলেছে, সোমবার ইউক্রেনজুড়ে ৮৩টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে যার মধ্যে ৪৩টিরও বেশি গুলি করে নামানো হয়েছে। এক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘ইউক্রেনকে ভয় দেখানো যাবে না। এটি কেবল আরও ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।’

সোমবার রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও লভিভ, খারকিভ, ডিনিপ্রো এবং জাপোরিঝিয়া শহরেও বড় ধরনের হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং আরও অনেক আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এদিকে জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল পানি ও বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। রাজধানী কিয়েভের বাসিন্দারা বলেছেন, রাশিয়া শিশুদের খেলার মাঠ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জনপ্রিয় তারাস শেভচেঙ্কো পার্কসহ ব্যস্ত বেসামরিক এলাকাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে বলে মনে হচ্ছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই হামলাকে ‘আরেক দফায় যুদ্ধের অগ্রহণযোগ্য বৃদ্ধি’ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এর জন্য বেসামরিক নাগরিকদের সর্বোচ্চ মূল্য দিতে হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, সোমবারের হামলায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন বলেছেন, রাশিয়া সন্ত্রাস ও বর্বরতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সোমবারের এই হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি ‘উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন’ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এসব হামলা পুতিনের ‘অবৈধ যুদ্ধের’ ‘চরম বর্বরতা’ প্রদর্শন করেছে।

অন্যদিকে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধে নিন্দা না জানানো চীন উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *