কোর্টরুমে কেঁপে উঠল বাংলাদেশ! হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড, ৫টি ভয়ঙ্কর অভিযোগ প্রমাণ

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে অবশেষে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও ফাঁসির সাজা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশের প্রাক্তন আইজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করা হয়। এই মামলার বিচারের সময় মোট ৫৪ জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন।

যে ৫ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেন হাসিনা:
ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেছে:

১. হাসিনার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যখন বাংলাদেশে সরকার বিরোধী গণ আন্দোলন চলছিল তখন তিনি ছাত্রযুবদের উপর পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। রাষ্ট্রপক্ষ হাসিনার বিরুদ্ধে সেই দেড় হাজার মানুষকে হত্যার অভিযোগ তুলেছিল।

২. হাসিনার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দেওয়ারও অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিভিন্ন রকমের মন্তব্যের কারণে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার দাবিও ছিল। সেই কারণেই ছাত্রযুবরা রাস্তায় নেমেছিলেন।

৩. রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বাংলাদেশের জনগণকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনার সমালোচনা হয়েছে। সেই হত্যার ঘটনাতেও অভিযুক্ত ছিলেন হাসিনা। তিনিই গুলির নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

৪. ঢাকার চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলন চলাকালীন সেখানে বাংলাদেশের পুলিশ ছ’জনকে গুলি করে হত্যা করেছিল। এই ঘটনার পেছনেও হাসিনাই জড়িত বলে অভিযোগ। তিনি সেখানে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

৫. অভিযোগ, গণআন্দোলন চলাকালীন আশুলিয়ায় ছ’জনকে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশও দিয়েছিলেন হাসিনা।

সরাসরি সম্প্রচারিত হলো ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম:
রায় ঘোষণার আগে ট্রাইব্যুনাল বিচারকার্য চলার সময় উপস্থাপন করা অডিও, ভিডিওসহ সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং ৫৪ জন সাক্ষীর দেওয়া বিবরণ প্রকাশ করে। যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের হত্যার ভিডিও এবং তথ্যপ্রমাণের বিবরণ দেওয়া হয়। বেলা সোয়া একটার দিকে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন শেখ হাসিনা ও তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনগুলো সরাসরি শোনানো হয়।

আশুলিয়ায় ৬ জনকে পুড়িয়ে হত্যা এবং চানখাঁরপুল এলাকায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যার মতো গুরুতর ঘটনাতেও তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। চূড়ান্ত রায়ে সমস্ত বিচারাধীন প্রক্রিয়ার শেষে শেখ হাসিনার এই চরম সাজা ঘোষণা হলো।