রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নাম করেও ভয়! ১৮৭টি লেনদেন করে গায়েব ৩১.৮৩ কোটি টাকা, নতুন এই প্রতারণা চক্রে চাঞ্চল্য

বেঙ্গালুরুতে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ৫৭ বছর বয়সী এক মহিলাকে প্রায় এক মাস ধরে মানসিকভাবে বন্দি রেখে প্রায় ৩১.৮৩ কোটি টাকা প্রতারণা করা হয়েছে। এই নতুন ধরনের প্রতারণার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। অভিযোগ, একাধিক প্রতারক নিজেদের ডিএইচএল (DHL) কর্মী, সাইবারক্রাইম দপ্তর, সিবিআই (CBI) এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মহিলাকে ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নেয়।

ডিএইচএল কল থেকে সিবিআই ট্র্যাপ

এফআইআর অনুযায়ী, প্রতারণার শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে। মহিলাকে ফোন করে একজন ব্যক্তি নিজেকে ডিএইচএল কর্মী পরিচয় দিয়ে জানান যে, মুম্বাইয়ের আন্ধেরি থেকে তাঁর নামে পাঠানো একটি পার্সেলে নিষিদ্ধ মাদক (MDMA), চারটি পাসপোর্ট এবং তিনটি ক্রেডিট কার্ড পাওয়া গেছে। মহিলা এই বিষয়ে কিছুই জানেন না জানালে, প্রতারকেরা জানায় তাঁর পরিচয় অপব্যবহার করা হয়েছে এবং বিষয়টি সাইবার অপরাধ হিসেবে সিবিআই তদন্তে যাচ্ছে।

এরপর দ্রুত ফোনটি ‘সিবিআই’ অফিসারের কাছে ট্রান্সফার করা হয়। প্রতারকেরা তাঁকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে বলে যে, স্থানীয় পুলিশের কাছে গেলে অপরাধীরা তাঁর বাড়িতে হামলা চালাতে পারে। পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে মহিলা প্রতারকদের নির্দেশ মানতে শুরু করেন।

স্কাইপে ‘হাউস অ্যারেস্ট’

প্রতারকেরা মহিলাকে দু’টি স্কাইপ আইডি ইনস্টল করিয়ে নেয়। সেখানে ‘মোহিত হান্ডা’ নামে এক ব্যক্তি লাগাতার তাঁর ক্যামেরা চালু রেখে নজরদারি করতে থাকে এবং জানায়—মহিলা এখন ‘হাউস অ্যারেস্ট’-এ আছেন এবং নিরন্তর পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আরেকজন নিজেকে সিবিআই অফিসার ‘প্রদীপ সিং’ বলে পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো ও অপমান করা শুরু করে।

প্রতারকেরা তাঁর ফোনের কার্যকলাপ ও অবস্থান সম্পর্কে জানত, যা তাঁকে আরও আতঙ্কিত করে। নির্দোষিতা প্রমাণ করতে তাঁকে সব সম্পত্তির বিবরণ দিতে বলা হয় এবং ভুয়ো সিবিআই চিঠিও দেখানো হয়।

১৮৭টি লেনদেনে হাতিয়ে নিল প্রায় ৩২ কোটি

২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৪-এর মধ্যে মহিলা তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্ক বিবরণ প্রতারকদের হাতে তুলে দেন। এরপর তাঁকে সব সম্পত্তির ৯০ শতাংশ অর্থ ‘ক্লিয়ারেন্স’-এর জন্য জমা দিতে বলা হয়। চাপের মুখে তিনি সেই টাকা জমা দেন। এরপর আরও ২ কোটি টাকা ‘শিওরিটি’ হিসেবে এবং পরবর্তীকালে ‘ট্যাক্স’ ও ‘প্রসেসিং ফি’-র নামে বহুবার টাকা দাবি করা হয়।

পুরো প্রতারণা চলাকালীন স্কাইপে মহিলাকে প্রতিনিয়ত নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। মোট ১৮৭টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারকেরা তাঁর কাছ থেকে ৩১.৮৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

দেরিতে অভিযোগ

মানসিক ট্রমা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে মহিলা সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সুস্থ হয়ে তিনি ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে পুলিশে এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি অত্যন্ত জটিল এবং এটি একটি আন্তঃরাজ্য বা আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কাজ হতে পারে। তদন্ত শুরু হয়েছে।