আজ রায়দান! মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন প্রসিকিউটররা, তার আগেই অডিও বার্তায় কর্মীদের পথে নামার বার্তা হাসিনার

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার রায় আজ, সোমবার (১৭ নভেম্বর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘোষণা করবে। রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে থেকেই আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা এবং আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যার বিরুদ্ধে রায় আসছে, সেই শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—”আই ডোন্ট কেয়ার।”
হাসিনার চূড়ান্ত বার্তা: “আল্লাহই জীবন দেবেন ও নেবেন”
সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, রায় ঘোষণার আগে সমর্থকদের উদ্দেশে এক আবেগঘন অডিও বার্তায় আওয়ামী লীগ নেত্রী তাঁর দৃঢ় মনোভাব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“ওরা রায় দিক। আমার কিছু যায় আসে না। আল্লাহ আমাকে জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তা কেড়ে নেবেন, কিন্তু আমি আমার দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব। আমি আমার বাবা-মা, ভাইবোনদের হারিয়েছি এবং আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে।”
ইউনূস সরকার ও গণভবন লুট
হাসিনা তাঁর বার্তায় নোবেল জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে তাঁর দলকে শেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন। তিনি কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন:
“এটা এত সহজ নয়, আওয়ামী লীগ তৃণমূল স্তর থেকে উঠে এসেছে, ক্ষমতা দখলকারীর পকেট থেকে নয়।”
গণভবনে ভাঙচুর ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানিয়ে হাসিনা বলেন, “গণভবন আমার সম্পত্তি নয়, এটি সরকারি সম্পত্তি। তারা বলছে এটি একটি বিপ্লব। গুন্ডা এবং সন্ত্রাসীরা বিপ্লব আনতে পারে না।”
অগ্নিগর্ভ ঢাকা: ‘দেখলেই গুলি করার’ নির্দেশ
রায় ঘোষণার আগে থেকেই গত তিন দিন ধরে ঢাকা এবং অন্যান্য শহর জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বোমা বিস্ফোরণ এবং যানবাহনে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রবিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বাসভবনের বাইরেও দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলি কর্মকর্তাদের বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানোর ক্ষমতা দিয়েছেন। তিনি বলেন:
“যদি কেউ বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় অথবা হত্যার উদ্দেশ্যে বোমা মারে তাহলে তাকে গুলি করা উচিত। আমাদের আইনে এই ক্ষমতা স্পষ্টভাবে দেওয়া আছে।”
দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হরতালে আওয়ামী লীগ
গত বছরের জুলাইয়ের বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হাসিনার বিরুদ্ধে আজ রায় ঘোষণা হতে চলেছে। প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে তাঁর অনুপস্থিতিতেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রসিকিউটররা হাসিনার মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন।
বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে আওয়ামী লীগ আজ দেশব্যাপী হরতালের ডাক দিয়েছে। হাসিনা তাঁর অডিও বার্তায় দলীয় সমর্থকদের সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাস্তার বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমি বেঁচে আছি। আমি বেঁচে থাকব। আমি দেশের জনগণকে সমর্থন করব।”