হাসিনার কি মৃত্যুদণ্ডই হবে? রায় ঘোষণার আগে আদালতে বিস্ফোরক প্রসিকিউটর, ‘নারী হওয়ায় কোনো ছাড় নেই!’

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মামলার রায় আজ, সোমবার (১৭ নভেম্বর), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ঘোষণা হতে চলেছে। এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ শেখ হাসিনার জন্য সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, তিনি কি সত্যিই মৃত্যুদণ্ড পেতে পারেন, এবং নারী হওয়ার কারণে তিনি কি কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন? এই প্রশ্নগুলোই এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।
“নারী হওয়ায় কোনো ছাড় নেই”
রবিবার এই মামলা নিয়ে ব্রিফিং করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার। ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারী হওয়ায় শেখ হাসিনা বিশেষ সুবিধা বা কোনো ছাড় পাবেন কি না, এই প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর স্পষ্ট জানিয়ে দেন:
“ফৌজদারি আইনে জামিনের ক্ষেত্রে নারী, অসুস্থ, কিশোর, বালক ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীকে সাধারণ আইনেও আলাদা কোনো প্রিভিলেজ বা অগ্রাধিকার দেওয়া হয় না। ট্রাইব্যুনাল আইনেও মহিলাদের জন্য আলাদা কোনো সুবিধা বা ছাড় নেই। তাই অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করেই শাস্তি দেওয়া হবে।”
অর্থাৎ, নারী হওয়ায় শেখ হাসিনা এই গুরুতর অপরাধের মামলায় কোনো বিশেষ সুবিধা পাবেন না।
আপিলের সুযোগ কি পাবেন হাসিনা?
এই মামলার তিন অভিযুক্তের মধ্যে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রসিকিউশন জানিয়েছে:
পলাতক থাকায়: হাসিনা বা আসাদুজ্জামান আজ সাজা পেলে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ পাবেন না।
আপিলের শর্ত: ট্রাইব্যুনাল আইন অনুযায়ী, অপরাধীকে রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। আপিল করতে হলে অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গ্রেফতার হলেও আপিলের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা হবে। শেখ হাসিনাকে এই মামলায় প্রধান অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।