শিলিগুড়ি ডাবল মার্ডার? থারুঘাটি জঙ্গলে দম্পতির রহস্যজনক দেহ উদ্ধার, পরিবারের চাঞ্চল্যকর দাবি

শিলিগুড়ি সংলগ্ন ডাবগ্রাম ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের থারুঘাটি এলাকায় বৈকুন্ঠপুর জঙ্গল থেকে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার সকালে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মৃত দম্পতির পরিবারের সদস্যরা এটিকে ‘খুন’ বলে দাবি করেছেন, যার ভিত্তিতে পুলিশ খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম তপন রায় (৫০) এবং তাঁর স্ত্রীর নাম অনিমা রায় (৪০)। তাঁরা থারুঘাটির ভোলানাথ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এরপরই শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন শাহু নদীতে পড়ে থাকা অবস্থায় অনিমা রায়ের দেহ এবং কাছেই জঙ্গলের ভেতরে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তপন রায়ের দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুইজনের গলাতেই ক্ষতের দাগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে খবর, অনিমা রায় একটি স্থানীয় কারখানায় কাজ করতেন এবং তপন রায় ছিলেন রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। শনিবার কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তাঁরা, কিন্তু রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। এরপরই নিখোঁজ দম্পতির খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর রবিবার সকালে জঙ্গলে তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়।

তবে এই ঘটনাকে ‘আত্মহত্যা’ বলে মানতে নারাজ পরিবার। মৃত দম্পতির ছেলে সুজন রায় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বাড়িতে কোনও অশান্তি ছিল না। হঠাৎ করে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার মতো কোনও কারণ ঘটেনি।” তাঁর দাবি, এটি খুন।

শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসিপি রাকেশ সিং জানিয়েছেন, ঘটনায় খুনের মামলা রুজু হয়েছে এবং পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখছে। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।