বিজেপির হয়ে ভোটে নামলেন কেরলের প্রথম মহিলা DGP! ‘রেইড শ্রীলেখা’-এর নিশানায় কি বাম-ফ্রন্ট?

বাংলায় শ্রীলেখা নাম শুনলে সিপিএম সমর্থক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রর কথা মনে এলেও, এবার কেরলের রাজনীতিতে চর্চায় উঠে এলেন আরেক শ্রীলেখা। তিনি হলেন কেরলের প্রথম মহিলা আইপিএস (IPS) এবং ডি-জিপি, শ্রীলেখা (Raid Sreelekha)। অবসর নেওয়ার পাঁচ বছর পর তিনি সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন।

কেরলে বিজেপির প্রার্থী ‘রেইড শ্রীলেখা’
পদ এবং পরিচিতি: ১৯৮৭ ব্যাচের এই অফিসার ২০১৭ সালে কেরলের প্রথম মহিলা ডি-জিপি হয়ে নজির গড়েন। সিবিআইয়ে ডেপুটেশনে থাকাকালীন ‘হাই-ভিজিবল’ অভিযানের জন্য তিনি ‘রেইড শ্রীলেখা’ নামে পরিচিত হন।

রাজনৈতিক ক্ষেত্র: ২০২০ সালে অবসর নেওয়ার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের সাস্তামঙ্গলম ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন।

বিজেপির চমক: তৃণমূল স্তরে প্রথমবার IPS প্রার্থী
শ্রীলেখা দাবি করেছেন, তাঁকে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী করাটা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। তাঁর বক্তব্য, “ভারতের কোথাও পঞ্চায়েত নির্বাচনে অবসরপ্রাপ্ত IPS-কে প্রার্থী করা হয়নি। বিজেপি আমাকে তৃণমূল স্তরে কাজের সুযোগ দিয়েছে।” তিনি স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের কাজকে সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছেন।

বাম-ফ্রন্টকে চ্যালেঞ্জ
কেরলে বিজেপি এবার পঞ্চায়েত ভোটে ২৫% ভোট শেয়ার পাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। ত্রিসূরে লোকসভা জয়ের পর তারা দক্ষিণের এই রাজ্যে আরও জমি বাড়াতে চাইছে। শ্রীলেখার লড়াই মূলত বাম-ফ্রন্ট সমর্থিত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে, যারা দীর্ঘ সময় ধরে এলাকায় কাজ করছেন।

সিপিএম নেতারা অবশ্য এতে চিন্তিত নন। দলের রাজ্য সম্পাদক এম.ভি. গোবিন্দনের বক্তব্য, “আইপিএস হোন বা ডিজিপি, তাতে কিছু আসে যায় না। আমাদের প্রার্থীরা বহুদিন ধরে মানুষের সঙ্গে কাজ করছেন।”

৩৩ বছরের কর্মজীবনের বিতর্ক
৩৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবনে শ্রীলেখা প্রশংসা যেমন পেয়েছেন, তেমনি বিতর্কও কম হয়নি:

২০১৬ সালে তিনি সহকর্মী টোমিন থাচানকারির বিরুদ্ধে প্রায় তিন দশক ধরে হয়রানির অভিযোগ আনেন।

২০২২ সালে তিনি পুলিশ বিভাগে নারী-অফিসারদের উপর যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলে বিতর্কে জড়ান। কেরল পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন যদিও তাঁর অভিযোগ অস্বীকার করে।

তিনি বলেন, “পুলিশে মহিলা হওয়া মানেই বাধা। কিন্তু রাজনীতিতে ৫০% সংরক্ষণ আছে।”

১২ নভেম্বর থেকে শ্রীলেখার জোরদার প্রচার শুরু হয়েছে। তিনি বলছেন, “আগে খাকি পরতাম, এখন গেরুয়া— এতটাই পার্থক্য।” তাঁর পরিচিতি এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিজেপির সংগঠনে নতুন শক্তি জোগাবে বলে গেরুয়া শিবির মনে করছে।