আর কিছুক্ষণেই হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ! মানবতা বিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা চাইল ইউনূস সরকার, ভারত কী করবে?

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) আজ, সোমবার, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলায় রায়দান করবে। এই মামলায় হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ ফাঁসির সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। এই রায়দানের আগে থেকেই গত সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশ দফায় দফায় অশান্তি, গাড়িতে আগুন এবং ককটেল বোমা ছোড়ার ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে আছে। যেকোনো বড় রকমের অশান্তি মোকাবিলা করতে দেশজুড়ে পুলিশ, সেনা এবং বিজিবি নামানো হয়েছে।

ফাঁসির সাজা হলে কী করবে বাংলাদেশ?
রায়দানের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, কূটনৈতিক সুরক্ষায় ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে যদি ICT ফাঁসির সাজা দেয়, তবে তাঁর শাস্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়া কী হবে?

রেড কর্নার নোটিস: প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন জানিয়েছেন যে হাসিনার বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিস জারি করার আবেদন জানানো হবে এবং কনভিকশন ওয়ারেন্টের আবেদনও করা হবে।

আগের আবেদন: এর আগেও ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার ইন্টারপোলের কাছে রেড কর্নার নোটিসের আবেদন করেছিল, যদিও তার কোনো জবাব মেলেনি। এবার সাজা ঘোষণা হলে সেই প্রক্রিয়া ফের জোরদার করা হবে।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মূল ৫টি অভিযোগ
ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি চলাকালীন শেখ হাসিনাকে জুলাই বিপ্লবের আন্দোলনকারীদের উপরে গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার প্রধান চক্রী বলে অভিহিত করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মূলত যে ৫টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলি হলো:

উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া।

হেলিকপ্টার, ড্রোন ও অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলন থামানোর নির্দেশ দেওয়া।

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সইদকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।

ঢাকার চানখাঁরপুলে ৬ জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার নির্দেশ।

আশুলিয়ায় ছয় জনকে পুড়িয়ে মারার নির্দেশ।

আদালতে তাঁর অডিয়ো রেকর্ডও প্রমাণ হিসাবে পেশ করা হয়েছিল। যদিও একাধিক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা সরাসরি কাউকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

অন্য দেশে বিচারের প্রশ্ন নেই
এই বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন হাসিনা ও বাকি দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ICT-তে যে মামলা হয়েছে, সেই একই অভিযোগে অন্য কোনো দেশে মামলা হলে তা গ্রাহ্য হবে না। এর কারণ হলো সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুইবার সাজা দেওয়া বা বিচার করা যায় না।